মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী; বাণিজ্যমন্ত্রী; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং খাদ্যমন্ত্রী।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ চরম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পড়েছিল। ওই সময়ে দেশের মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল, যা বর্তমানেও ৯ শতাংশের উপরে রয়েছে। সেই যুদ্ধের প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে আক্রমণ শুরু করার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনরায় বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই কমিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে এবং বাংলাদেশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করবে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ‘সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা' প্রণয়ন করাও এই কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুযায়ী জরুরি সভা আহ্বান করবে। অর্থ বিভাগ এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।