পাবনার চাটমোহরে কৃষক সাজেদুল ইসলামের ৭ বিঘা জমির তরমুজের গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। এ ঘটনার বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতের কোনো এক সময় তরমুজ গাছ উপড়ে ফেলা হয়। পর দিন বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জমিতে গিয়ে সব তরমুজ গাছ উপড়ানো দেখতে পান কৃষক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাজেদুল ইসলাম উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মুসুল্লিপাড়া গ্রামের শাজাহান আকন্দের ছেলে।
আর অভিযুক্ত নারীর নাম আসমানী খাতুন। তিনি পার্শ্ববর্তী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের চামটা গ্রামের আব্দুর রহিমের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী কৃষক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি ঋণ করে চলনবিলে ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আবাদ করে আসছি। এর মধ্যে ৭ বিঘা জমিতে রসুনের মাঝে তরমুজ ও ৩ বিঘা জমিতে রসুনের মাঝে ঝিঙে আবাদ করেছি। ৮-১০ দিন আগে আসসানী খাতুনসহ কয়েকজন নারী শ্রমিক কাজে নিয়েছিলাম। আসমানি পাঁচ জন শ্রমিকের জায়গায় ছয়জন শ্রমিক নিয়ে কাজে এসেছিলেন। আমি বলেছিলাম, পাঁচজনের বেশি কাজে নেব না। সে সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমানী খাতুন আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন ছয়জনকে কাজে না নিলে এর পরিণতি ভালো হবে না। এর খেসারত দিতে হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘বুধবার দুপুরে জমিতে গিয়ে দেখতে পাই, জমি থেকে সকল তরমুজ গাছ উপড়ে ফেলে জমির আইলের বিভিন্ন জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার রাতের এই কাজটি করা হয়। আমার সন্দেহ, কাজে না নেওয়ার কারণে আসমানী খাতুন এই কাজ করেছেন।’’
এতে তার প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাজেদুল ইসলামের পাশের জমি চাষাবাদকারী মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘‘সাজেদুলের জমি থেকে তরমুজের গাছ তোলার পাশাপাশি আমার জমি থেকেও তরমুজের গাছ তুলে ফেলেছে। আমি লিজ নিয়ে ১০ কাঠা জমির রসুনের পাশাপাশি তরমুজ আবাদ করেছি। আমারও বেশকিছু ক্ষতি হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমার ধারণা, সাজেদুলের জমির তরমুজের গাছ যে নষ্ট করেছে, আমার জমির তরমুজের গাছও সেই নষ্ট করেছে।’’
এ ঘটনায় আসমানী খাতুনকে দায়ী করে বুধবার (১১ মার্চ) রাতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে তার শাস্তির দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাজেদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’