“নির্ধারিত টাকার চেয়ে এক টাকাও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানে মোবাইল কোর্ট, ভিজিলেন্স টিম এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম আছে। যেকোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা তৎপর আছি।”
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “যথেষ্ট সংখ্যক বাস রাখা হয়েছে এবং যত্রতত্র পার্কিং নেই। শৃঙ্খলার সঙ্গে বাসগুলো আসছে এবং যাত্রীরা টিকিট কেটে নিয়মিতভাবে স্টেশন ছেড়ে যেতে পারছেন।”
তিনি বলেন, “আমি মনে করছি, এবার জনগণ বাস, ট্রেন বা লঞ্চ স্টেশন থেকে একটি স্বস্তির ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতভাবে পেতে যাচ্ছে।”
বিকেলে সরকারি অফিস শেষে যাত্রীদের চাপ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, “আজ সরকারি অফিস শেষে বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে। সেই বাড়তি চাপ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “দুই দিনে দেড় কোটি মানুষ বাড়ি ফিরবে। আমাদের যে পরিবহন সক্ষমতা সেটার ওপর চ্যালেঞ্জ এবং চাপ সেটা মাথায় রেখে আমাদের সবকিছু করতে হচ্ছে। মনে রাখা দরকার, পৃথিবীর কোনো শহর নাই, যে দুই দিনে দেড় কোটি বাসযান করে। খুব কম শহর আছে, যেখানে দেড় কোটি লোক বসবাস করে। এটা একটা বড় উৎসব, আমরা জাতি হিসেবে এটি উদযাপনে যেভাবে অভ্যস্ত, বিশেষ করে বাড়ি ফেরায় যাত্রীদের বাড়তি চাপ যেমন থাকে আনন্দও থাকে। আমরা এবারও সবকিছু সমন্বয় করতে চাই। সক্ষমতার শতভাগ দিয়ে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে চাই।”
ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কোনটি ফিটনেসবিহীন গাড়ি, আমাকে জানান। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আমরা একে নিরুৎসাহিত করছি। আমরা গ্যারেজে গ্যারেজে গিয়ে সতর্ক করে আসছি।”
গত সাত দিনে বাড়তি ভাড়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “তারা (পরিবহন মালিকরা) তাদের খুশিতেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নিচ্ছে। যত কম রাখা যায়, তারা রাখছে। যদি সরকারি ভাড়া ৭০০ টাকা হয়, যাত্রী আকৃষ্ট করতে ১০০ টাকা কমিয়ে তারা ৬০০ টাকা নিতেন, এখনও তাই নিচ্ছেন। আবার কেউ ২০ টাকা কমিয়ে ৬৮০ টাকা নিচ্ছেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত ভাড়া অতিক্রম করেছে এমন কোনো নজির আমি গত সাত দিনে পাইনি।”
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না এবং বাসে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু ব্যবস্থাপনাগত বিষয় থাকতে পারে, কিন্তু গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবহন মালিকরা এখানে আছেন; গত রাত থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হবে। তেলের দাম বাড়ছে না, যা আমি আগেও আপনাদের জানিয়েছি। আজকেও বলছি—তেলের দাম বাড়ছে না এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।”
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় চারদিক থেকে ‘পাচ্ছে না’ ‘পাচ্ছে না’ বলে আওয়াজ করলে তখন মন্ত্রী বলেন, “তেল পাচ্ছে না—এমন বলার সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত হারে তেল পাচ্ছে। কোথায় তেল পাচ্ছে না, আমাকে জানান। তেল দেওয়ার দায়িত্ব আমার।”
টার্মিনালের বাইরে বাস পার্কিং সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “যে পরিমাণ যাত্রী এই টার্মিনাল ছেড়ে যাবে এবং যে পরিমাণ বাস এখানে আছে, তাতে সব বাসকে পার্কিংয়ের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে বাস ঢুকছে; একটি বাস ছেড়ে যাচ্ছে, আরেকটি বাস ঢুকছে। এখানে কিছুটা বিড়ম্বনা আছে, যা এক দিনের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। রাস্তার চলাচল স্বাভাবিক রেখে শৃঙ্খলার মধ্যে যতটুকু রাখা যায়, আমরা আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে তা ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। আশা করি আমরা সফল হব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভলান্টিয়ার, বিআরটিএ এবং মালিক ও শ্রমিক সমিতির প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।”
সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।