পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) মাগরিবের পর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা মসজিদে এসে জড়ো হতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের ভেতর ও বাইরের চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিদের উপস্থিতিতে।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে লাইলাতুল কদর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। পবিত্র কোরআনে এই রাতকে ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এই রাতে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় মুসল্লিরা নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বায়তুল মোকাররমের মূল মসজিদ, উত্তর-দক্ষিণ চত্বরে মুসল্লিরা জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করছেন। আবার কেউ কোরআন তিলাওয়াতে ব্যস্ত, কেউ নফল নামাজ আদায় করছেন, আবার কেউ চোখের জলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
মতিঝিল থেকে আসা মুসল্লি মো. আবদুল কাদের বলেন, “লাইলাতুল কদর এমন একটি রাত, যেদিন আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন। তাই প্রতি বছর চেষ্টা করি বায়তুল মোকাররমে এসে ইবাদত করার। এখানে এসে অন্যরকম আত্মিক প্রশান্তি পাই।”
আরেক মুসল্লি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সারা বছর নানা ভুলত্রুটি হয়। এই রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আছে। তাই ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাত কাটানোর চেষ্টা করছি।”
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মতে, লাইলাতুল কদর এমন এক বরকতময় রাত, যখন আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন এবং তাদের দোয়া কবুল করেন। তাই এই রাতকে কেন্দ্র করে মুসলমানরা বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও তওবা করার চেষ্টা করেন।
মসজিদের খাদেমরা জানান, শবে কদর উপলক্ষে মুসল্লিদের সুবিধার্থে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, ওজুখানা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
এদিকে রাতভর ইবাদত শেষে মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ, গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিবেন।