জাতীয়

অশ্রুসিক্ত চোখে ক্ষমা প্রার্থনা মুসল্লিদের

পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তিলাওয়াত ও নফল নামাজে রাতভর মুখর ছিল জাতীয় মসজিদ। গভীর রাতে বিশেষ দোয়ায় অংশ নিয়ে মুসল্লিরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে মহান আল্লাহর কাছে নিজেদের অতীতের ভুল-ত্রুটি ও গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সোমবার(১৬ মার্চ) রাতে মসজিদের ভেতরে-বাইরে হাজারো মুসল্লি দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চান। কেউ নীরবে চোখের পানি ফেলছেন, আবার কেউ কান্নাভেজা কণ্ঠে দোয়া করছেন। পবিত্র এই রাতে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় মুসল্লিরা গভীর আবেগ নিয়ে ইবাদতে মগ্ন থাকেন।

খতমে তারাবি শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়ায় তিনি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করেন। পাশাপাশি সারাবিশ্বে নির্যাতিত মুসলমানদের ওপর অত্যাচার ও অবিচার থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হয়।

এ সময় সরকারের প্রধানসহ দেশের সার্বিক কল্যাণ ও শান্তির জন্য দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বিশেষ দোয়ার সময় পুরো মসজিদজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। হাজারো মুসল্লির কান্না আর প্রার্থনায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

মুসুল্লিরা বলেন, লাইলাতুল কদর এমন এক মহিমান্বিত রাত, যে রাতে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং গুনাহ মাফ করে দেন। তাই এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি ও তওবার গুরুত্ব অপরিসীম।

এর আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সোমবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এতে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।