ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা। বিশেষ করে বিনা টিকেটে ভ্রমণ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ নিয়েছে কঠোর অবস্থান। স্টেশনে প্রবেশের মুখ থেকেই টিকিট যাচাই করা হচ্ছে, ফলে বিনা টিকিটে ভেতরে ঢোকার সুযোগ বন্ধ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে দেখা যায়, স্টেশনের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছেন। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে টিকিট কাউন্টারের সামনে ভিড় করছেন, বিশেষ করে ‘স্ট্যান্ডিং’ বা দাঁড়িয়ে ভ্রমণের টিকিট সংগ্রহ করতে।
স্টেশনে কথা হয় ময়মনসিংহগামী যাত্রী রাশেদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, “দুই দিন ধরে চেষ্টা করেও কোনো সিটের টিকিট পাইনি। আজ সকালে এসে দেখি বিনা টিকিটে ঢুকতেই দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কাটতে লাইনে দাঁড়িয়েছি।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরেক যাত্রী নাজমুস সাকিব তিনি বলেন, “পরিবারের সঙ্গে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সিটের টিকিট না পেয়ে এখন অন্তত বাড়ি যাওয়ার জন্য স্ট্যান্ডিং টিকিট নিচ্ছি। কষ্ট হলেও যেতে তো হবে।”
রেলওয়ে তথ্য সূত্র জানায়, এবার ঈদযাত্রা উপলক্ষে কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৪৪টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এসব ট্রেনে প্রায় ৬২ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন। যাত্রীচাহিদা বিবেচনায় ট্রেনের মোট আসনের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ভ্রমণের টিকিট দেওয়া হচ্ছে।
স্টেশন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, “বিনা টিকিটে ভ্রমণ ও টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। যাত্রীদের টিকেট তিন ধাপে যাচাই করা হচ্ছে।স্টেশনে প্রবেশের সময়, প্ল্যাটফর্মে ওঠার আগে এবং ট্রেনে ওঠার সময়।”
তিনি আরো বলেন, “ছাদে ভ্রমণের বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেউ ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”