জাতীয়

সদরঘাটমুখী রাস্তায় তীব্র যানজট, বাস ছেড়ে হেঁটে লঞ্চ ধরছে মানুষ

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আনন্দ এবার ফিকে হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজধানীর সদরঘাটমুখী প্রবেশপথগুলোতে। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা গিয়েছে। একদিকে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার তাড়া, অন্যদিকে তীব্র যানজট এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে শত শত ঘরমুখো মানুষ বাধ্য হয়ে বাস ও রিকশা ছেড়ে পায়ে হেঁটে সদরঘাটের দিকে যাচ্ছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চানখাঁরপুল, বাবুবাজার, তাঁতীবাজার ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় তীব্র যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যানবাহনের চেয়ে হাঁটা পথই এখন দ্রুততর। নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ধরার তাড়নায় অনেক যাত্রী পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বড় ব্যাগ ও ছোট শিশুদের সাথে নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবার নিয়ে যারা ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন।

পটুয়াখালীগামী যাত্রী মো. রমজান আলী বলেন, “গুলিস্তান থেকে সদরঘাট আসতে বাসে আড়াই ঘণ্টা ধরে বসে ছিলাম। যানজটের যে অবস্থা, তাতে বাসে থাকলে নিশ্চিত লঞ্চ মিস করতাম। বাধ্য হয়ে দুই হাতে দুইটা ব্যাগ আর কোলে ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে হাঁটা শুরু করেছি। রোদের তাপে বাচ্চাটা ঘেমে একাকার, আমরাও ক্লান্ত। ঈদযাত্রার আনন্দটা এই রাস্তার জ্যামেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

ভোলাগামী আরেক যাত্রী শফিক আহমেদ বলেন, “আড়াই ঘণ্টা ধরে বাসে বসে ছিলাম। আর বসে থাকলে লঞ্চ মিস করে ফেলবো। তাই, বাধ্য হয়ে দুই হাতে মালামাল নিয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছি।”

চাঁদপুরগামী যাত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, “মালামাল নিয়ে বাস থেকে নেমে এখন কুলির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি। জ্যামে পুরো রাস্তা ব্লক হয়ে আছে। বাস থেকে নামার পর আধামাইল রাস্তা হেঁটে এসেছি, আরো অনেকটা পথ বাকি। এই গরমে হাঁপিয়ে উঠছি, আমার লঞ্চ ছাড়ার আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি আছে। ব্যাগ কাঁধে নিয়ে এই ভিড় আর ধুলার মধ্যে হাঁটা যে কতটা যন্ত্রণার, তা বলে বোঝানো যাবে না। আর লঞ্চ মিস করলে আবার অনেক সময় অপেক্ষা করতে হবে।”