জাতীয়

ঈদ এলেই বাড়তি ভাড়া, নিয়ন্ত্রণহীন রাজধানীর গণপরিবহন

ঈদুল ফিতরের ঠিক আগমুহূর্তে রাজধানীর গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। ঈদ বোনাস বা বকশিস- এই অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ যাত্রীরা। 

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর রায়েরবাগ, বকশিবাজার, রামপুরা, শাহবাগ, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা, এমনকি ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাসচালক ও সহকারীরা ঈদ বকশিসের কথা বলছেন। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া দিতে না চাইলে তারা যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। 

বাসযাত্রী রুহুল আমিন বলেন, ঈদের দুই দিন আগে থেকেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। রায়েরবাগ থেকে গুলিস্তান রুটে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, সবাই তো বোনাস পায় না। কিন্তু আমাদেরই দিতে হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেন চিটাগাং রোড থেকে পাটুরিয়াগামী  সুজন শেখ। তিনি বলেন, ১৮০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা দিতে হয়েছে। আমি নিজেই বোনাস পাইনি। কিন্তু বাড়তি ভাড়ার কারণ হিসেবে তারা ঈদের বকশিসের কথা বলছে। 

আরেক যাত্রী আব্দুল কালাম বলেন, ঈদের সময় পরিবহনশ্রমিকরা এক ধরনের অঘোষিত চাপ তৈরি করেন। বাড়তি ভাড়া না দিলে ঝামেলায় পড়তে হয়, বলেন তিনি। শুধু বাস নয়, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

তবে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি ভিন্ন। ঠিকানা পরিবহনের সুপারভাইজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মালিকপক্ষ থেকে বোনাস না পাওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকেই তা নেওয়া হচ্ছে। ঈদের পর অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। 

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তারা।