জাতীয়

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ঢল 

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। সরকারি ছুটির তৃতীয় দিনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে সরগরম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে টার্মিনালে ভিড় জমান। ভোরের আলো ফুটতেই যাত্রীদের ঢল নামতে শুরু করে, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো বাড়তে থাকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে লঞ্চে ওঠার প্রতিটি ধাপেই ছিল তীব্র ব্যস্ততা। তবে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে ছিল ঈদের আনন্দ আর বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এতে কিছুটা হলেও যাত্রীচাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পটুয়াখালীগামী যাত্রী মনির হোসেন বলেন, “সারা বছর কাজের চাপে বাড়ি যাওয়া হয় না। ঈদে কয়েকদিন ছুটি পেয়েছি, তাই ভিড় হলেও বাড়ি যেতে পারছি—এটাই বড় আনন্দ। যদিও গতকালের দুর্ঘটনার কারণে কিছুটা ভয় কাজ করছে, তবে এবার ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে।”

বরিশালগামী যাত্রী নাজমা বেগম বলেন, “গ্রামে আমার দুই ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। ঈদে তাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পারবো, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। পদ্মা সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমরা লঞ্চে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”

সায়লা খাতুন ও কুদ্দুস দম্পতি বলেন, “ভিড় তো থাকবেই, ঈদের সময় এটা স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সমস্যায় পড়িনি। ভাড়াও নির্ধারিত আছে, যদিও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কিছু খবর শুনেছি।” 

এদিকে, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে টার্মিনালজুড়ে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তারা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন এবং যাত্রীদের সহযোগিতা করছেন।