পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির তৃতীয় দিনেও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় করছেন।
এ দিকে গত বুধবার রাতে ঝড়বৃষ্টি ও সৃষ্ট যানজটের কারণে ঢাকার বাইরে থেকে নির্ধারিত সময়ে টার্মিনালগুলোতে ফিরতে না পারায় গাড়ির স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। ফলে সকালে সময়মতো বাস ছাড়তে না পারায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ময়মনসিংহগামী বাস কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বাসের অপেক্ষায় ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের। বসার জায়গা না থাকায় এ সময় অনেক শিশু ও নারী যাত্রীকে টার্মিনালের ফ্লোরে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। যদিও তারা জানেন না এই অপেক্ষার শেষ কখন হবে।
যাত্রীদের অভিযোগ, সময়মতো বাসের টিকিট না পাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের জটলা বাড়ছে কাউন্টারের সামনে। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় এসেও লাইনে দাঁড়িয়ে সকাল নয়টা পর্যন্ত ময়মনসিংহগামী ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের টিকিট পাননি বলে অভিযোগ করেন রহমত আলী। এই যাত্রী বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় পরপর কাউন্টার থেকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। ফলে সময় যতই যাচ্ছে যাত্রীদের সংখ্যা ততই বাড়ছে। গরমের ভিতরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে সবার কষ্ট হচ্ছে।’’
এদিকে বাস কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃষ্টি এবং যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে বাসগুলো ঢাকায় ফিরে আসছে না। ফলে গাড়ি ছাড়তে একটু দেরি হচ্ছে। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেশি থাকায় টার্মিনালে যাত্রীদের চাপ রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। সরকারি ছুটির প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের চেয়ে তৃতীয় দিন যাত্রীদের চাপ বেশি বলেও জানান তারা।
সরেজমিন ঘুরে ও পরিবহন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকেই দূরপাল্লার বাস একের পর এক টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে। তবে কিছু বাস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ছাড়ায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের কাউন্টারের সামনে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালে দায়িত্বরত বিআরটিএ কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অসমীয়া জায়গীরদার বলেন, ‘‘আজকে মহাখালী বাস টার্মিনালে বাসের স্বল্পতা রয়েছে। ফলে চাপ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমরা সবসময় মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি। পরিবহন মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছি, যাতে বাসগুলোকে দ্রুত টার্মিনানে নিয়ে আসা যায়।’’
ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের কাউন্টার ইনচার্জ মো সজিব বলেন, ‘‘বাসের সিট পূর্ণ হলে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালে বাসের সংকট কিছুটা আছে। একইসঙ্গে আজকে যাত্রীদের চাপও আছে।’’
ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একতা এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা মো. স্বপন বলেন, ‘‘ভোর পাঁচটা থেকে একটার পর একটা গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। খুব বেশি সময়ক্ষেপণ হচ্ছে না। যাত্রী চাপ আছে, তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’’