জাতীয়

সব বাধা পেরিয়ে বাড়ির পথে ছুটছেন রাজধানীবাসী

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির আজ তৃতীয় দিন। বেসরকারি চাকরিজীবীদের সিংহভাগ ছুটি পেয়েছেন গত বুধবার। ফলে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীজুড়ে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল কমেনি। নাড়ির টানে এখনও রাজধানী ছাড়ছেন অনেকে। তবে পর্যাপ্ত পরিবহন না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পিকআপ ও খোলা ট্রাকে গন্তব্যে যাচ্ছেন। 

এদিন সকাল থেকে রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা ও তেজগাঁও এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে ব্যাগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পরিবারসহ যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের একেক জনের গন্তব্য একেক দিকে। কারও হাতে বড় ব্যাগ, কারও কাঁধে বস্তা, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে অপেক্ষা করছেন। 

অনেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত যানবাহন না পেয়ে শেষমেশ ঝুঁকি নিয়েই পিকআপ বা ট্রাকে উঠে পড়ছেন। কোনো কোনো পিকআপে গাদাগাদি করে বসে আছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। এতে করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বাড়ি ফেরার তাগিদে ঝুঁকি নিচ্ছেন তারা। বিশেষ করে যারা আগে থেকে বাস বা ট্রেনের টিকিট করেননি তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি।

ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়েছে গতকাল রাতের ঝড়বৃষ্টি। এ কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান যাত্রাপথ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ফলে ফিরতি গাড়িগুলো সময়মতো ঢাকা আসতে পারেনি। রাজধানীর বাস টার্মিনাল ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রাপথে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মূল প্রবেশপথ হিসেবে খ্যাত পদ্মা সেতু হয়ে দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা ছাড়াই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখী মানুষ। 

এদিন সকালে তেজগাঁও এলাকায় দেখা যায় পিকআপে করে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রহমান মিয়া। জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাসের টিকিট নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বলে টিকিট শেষ। তাই বাধ্য হয়ে পিকআপে উঠেছি। ঝুঁকি আছে জানি, কিন্তু আর উপায় নেই।”

অন্যদিকে রামপুরা বনশ্রীর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা নরসিংদীর যাত্রী জসিম বলেন, “পরিবার নিয়ে বাড়ি যাব। বাসের অপেক্ষায় আছি। ঈদের কারণে লোকাল বাস কম রয়েছে। তাই অনেকক্ষণ রাস্তায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’’

অপেক্ষায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী ও শিশুরা। রাজধানীতে সকালের রোদ দেখে বোঝার উপায় নেই গতরাতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। রোদের তাপে কেউ সড়কের পাশে দোকানে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ রোদের মধ্যেই অপেক্ষা করছেন। শিশুরা কেউ ক্লান্ত হয়ে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়ছে, কেউ কান্নাকাটি করছে।

এদিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। তারা যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দের মাঝেও বাড়ি ফেরার এই যাত্রা অনেকের জন্য হয়ে উঠেছে কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সব বাধা পেরিয়ে বাড়ির পথে ছুটছেন নগরবাসী।