পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে টানা কয়েক দিনের তীব্র যাত্রীচাপ শেষে এখন অনেকটাই ফাঁকা রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো। গত চারদিন যেখানে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল, সেখানে এখন কাউন্টারগুলোতে তেমন কোনো চাপ নেই। বাসের টিকিট বিক্রির কাউন্টারগুলো ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে, অনেক বাসও যাত্রীশূন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাস কাউন্টার কর্তৃপক্ষ জানান, ঈদ সামনে রেখে প্রথম দিকের দিনগুলোতেই অধিকাংশ মানুষ গ্রামে চলে গেছেন। ফলে শেষ সময়ে এসে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে এখনও কিছু মানুষ শেষ মুহূর্তে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন। কিন্তু তাদের সংখ্যা খুবই কম।
অধিকাংশ মানুষ আগেভাগেই ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এবার ঈদযাত্রার শেষ দিনে তেমন কোনো চাপ ও ভোগান্তি নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী বাস টার্মিনালে নেই সেই চিরচেনা ভিড় নেই। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার দৃশ্য চোখে পড়েনি। টার্মিনালের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো অপেক্ষাকৃত কম যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে। বাসগুলোতে যাত্রী টানতে টার্মিনালে সিএনজি, অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার আসার সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে যাচ্ছেন বাসের হেল্প সুপারভাইজাররা।
এর আগে ঈদযাত্রার প্রথম তিনদিন মহাখালীসহ রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পরিবহন মালিকদের হিমশিম খেতে হয়। তবে শেষ দিনে এসে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালে দায়িত্বরত বিআরটিএ কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অসমীয়া জায়গীরদার বলেন, “আজকে মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের সংখ্যা খুবই কম। গত কয়েক দিনে যাত্রীরা ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে আজকে মহাখালী বাস টার্মিনালে চাপ নেই বললেই চলে। তবুও আমরা আমাদের মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি যাতে যাত্রীর কোনো ভোগান্তি পোহাতে না হয়।”
ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের কাউন্টার ইনচার্জ মো সজিব বলেন, “ঈদের শেষ দিনে আজ যাত্রী খুবই কম। যাত্রীরা আসছেন টিকেট নিচ্ছেন। বাসের সংকট না থাকায় সময় মতো গাড়ি টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে।”
ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একতা এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা মো. স্বপন বলেন, “ভোর পাঁচটা থেকে আমরা গাড়ি ছাড়ছি। তবে আজকে যাত্রীর চাপ অনেক কম। বাস টার্মিনালে আজকে যেসব যাত্রী উপস্থিত হচ্ছেন তাদের অধিকাংশই কাছের জেলাগুলোতে যাবেন। দূরপাল্লার যাত্রীর সংখ্যা নেই বললেই চলে।”