বৃষ্টিতেও স্বাভাবিক চলাফেরায় ছন্দপতন ঘটলেও জুমাতুল বিদায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুসল্লির ঢল নেমেছে। মসজিদের ভেতরে, চত্বরে মুসল্লির উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এক পর্যায়ে নিচে জায়গা না পেয়ে মসজিদের দ্বিতীয় তলা, তৃতীয় তলাসহ যে যেখানে পেরেছেন নামাজ আদায় করেছেন।
নামাজের আগ থেকে বজ্রপাতের সঙ্গে বৃষ্টির মধ্যেও ছোট ছোট শিশু সন্তানদের হাতে ধরে বায়তুল মোকাররমে জুমা আদায় করতে ছুটে আসেন মুসল্লিরা।
তবে গত শুক্রবার জুমাতুল বিদা ধরে নিয়ে যেভাবে বায়তুল মোকাররমে মুসল্লি কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল আজকে সেটা হয়নি। অনেকে ঈদ করতে ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে গত শুক্রবারের তুলনায় আজকের জুমাতুল বিদায় মুসল্লি ছিল কম। তারপরও রাজধানী এবং তার আশাপাশ এলাকা থেকে এসে জাতীয় মসজিদে মুসল্লিরা জুমাতুল বিদার নামাজ আদায় করেছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মুসল্লি পরিবার নিয়ে জুমা আদায় করেছেন। নামাজ শেষে বৃষ্টিতে আটকা পড়েন তারা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিজে মসজিদ ত্যাগ করেন তারা।
জুমাতুল বিদা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এক আগেব ছোয়া ফরজ এবাদতের অংশ। জুমাতুল বিদা মানে মাহে রমজানকে বিদায় জানানো। জুমাতুল বিদা জীবনের শেষ জুমা কিনা, পবিত্র এই মাস আর পাবে কিনা ভেবে ভেবে শ্রষ্ঠার পানে ব্যাকুল মুসল্লিরা। তাই জুমার নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের সময় মুসল্লিরা মনের অজান্তে চোখের পানি ভাসিয়ে মাহে রমজানকে বিদায় জানিয়েছেন। নিপিড়িত বিশ্ব মুসলিম, পিতা মাতা পরিবার আত্মীয় স্বজনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
জুমার নামাজ শেষে ঢাকার একটি জুতা কারখানার কর্মজীবী সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা মুসল্লি বিপ্লব বলেন, “মহান আল্লাহর শোকরিয়া। একটি রোজা বেশি রাখার, আরো বেশি এবাদত বন্দেগি করার তাওফিক দিয়েছেন। শুধু রোজা বেশি পাইনি বরং জুমাতুল বিদাও পেয়েছি।”
জুমাতুল বিদায় কী দোয়া করেছেন, জবাবে তিনি বলেন, “মা বাবা পরিবার দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করেছি। বিশেষ করে, আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের জয়ের জন্য দোয়া করেছি। ফিলিস্তিনসহ নিপিড়িত মুসলমানদের মুক্তি চেয়েছি।”
জুমাতুল বিদার নামাজ শেষে নির্যাতিত বিশ্ব মুসলিমদের হেফাজতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া প্রার্থনা করেছেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফাত মাওলানা আব্দুল মালেক।
ইরান, ফিলিস্তিনের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, নিপিড়িত মুসলিম বিশ্বকে হেফাজত করো। আমাদের দেশ ও জাতিকে হেফাজত করো। আমাদের নামাজ, রোজা, এবাদত বন্দেগি কবুল করো। আমরা যা কিছু করেছি তোমার সন্তুষ্টির জন্য করেছি। বিশেষ করে আমাদের পিতা মাতাকে ক্ষমা করে দাও।”
মাহে রমজানের শিক্ষা পরবর্তীতে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, “মাহে রমজানের এই পবিত্রতা যেন আমারা জীবনভর ধরে রাখতে পারি। আমাদের ঈমান আমলের জিন্দেগি দান করো আল্লাহ। এভাবেই যাতে আমরা চলে যেতে পারি।”
জুমাতুল বিদার নামাজের আগে খুতবায় বায়তুল মোকাররমের খতিব বলেন, “এই মাহে রমজান দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল, এতবড় নেয়ামত পেয়েও যারা কাজে লাগাতে পারেনি তারা বড়ই দুর্ভাগা। এ মাস কুরআনের মাস। তাই বলে রমজান চলে গেলে আমরা কি নামাজ নিয়মিত পড়বো না? পড়তে হবে।”
“দেখেন, বন্ধু আসলে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার জন্য আমরা পাগল হয়ে যায়, আর স্রষ্টা যিনি নামাজের মাধ্যমে বান্দাহর সঙ্গে কথা বলেন, তারজন্য আমাদের সময় নেই। আফসোস, আমরা কতই দুর্ভাগা, নালায়েখ,” এভাবে দৃষ্টান্ত দিয়ে মুসল্লিদের স্মরণ করিয়ে দেন খতিব।
মাহে রমজানকে কুরআনের মাস উল্লেখ করে মুফতি মালেক কলেন, “রমজান চলে গেলে কি আমরা কুরআত তেলাওয়াত করব না। আরো বেশি বেশি করব। এটাই রমজানের শিক্ষা। তবে শুদ্ধভাবে কুরআন পড়া শিখতে হবে। রমজানের দান সাদকাহ জারি রাখতে হবে। আমাদের ঈমান আমলের সঙ্গে চলতে হবে।”