জাতীয়

ঈদের আগে জেন্টস পার্লারে পুরুষদের ভিড়

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ। তার আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জেন্টস পার্লারে পুরুষদের উপস্থিতি বেড়েছে। চুল-দাড়ি কাটার পাশাপাশি ফেশিয়াল ও গ্রুমিং সেবায় আগ্রহ বাড়ায় তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।

শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলের পর ঢাকার রায়েরবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও, নারিন্দা ও বংশালের বেশ কিছু জেন্টস পার্লার ঘুরে কর্মীদের ব্যস্ততা দেখা যায়।

রায়েরবাগের একটি জেন্টস পার্লারে ঢুকতেই চোখে পড়ে, প্রতিটি চেয়ার দখল করে বসে আছেন গ্রাহকরা। তাদের কেউ হেয়ার কাট করাচ্ছেন, কেউ দাড়ি সেট করছেন, আবার কেউ ফেশিয়াল কিংবা হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিচ্ছেন।

সেলুন কর্মী আরিফ বলেন, “ঈদের আগে এবার পুরুষদের চাপ অনেক বেশি। আগের মতো শুধু চুল-দাড়ি কাটায় সীমাবদ্ধ নেই। এখন সবাই ফেশিয়াল, হেয়ার স্পা, এমনকি স্কিন ট্রিটমেন্টও নিচ্ছে। আমাদের রাত ১টা-২টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।”

রামপুরার বাসিন্দা ফারহান প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, “ঈদে নিজেকে একটু গুছিয়ে উপস্থাপন করতে চাই। তাই ভালো পার্লারে এসে সার্ভিস নিচ্ছি। ভিড় থাকলেও মানের সঙ্গে আপস করতে চাই না।”

খিলগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় সব জেন্টস পার্লারের একই চিত্র। কেউ সিরিয়াল দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ ভেতরে বসে সময় গুনছেন।

সোহেল নামে এক পার্লার মালিক বলেন, “ঈদের আগের সময়টাই আমাদের ব্যস্ততা। এবার তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সীরাও নিয়মিত ফেশিয়াল ও গ্রুমিং করাচ্ছেন।”

নারিন্দা ও পুরান ঢাকার পার্লারগুলোতে ব্যস্ততা আরো বেশি। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই পার্লারের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

সেলুন কর্মী সুজন বলেন, “সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়। এ সময়টায় বসারও সুযোগ নেই। অনেকে সিরিয়াল দিয়ে চলে যান, পরে এসে সার্ভিস নেন।”

নারিন্দার বাসিন্দা সাব্বির বলেন, “আগে ঈদের আগে শুধু চুল-দাড়ি কাটতাম। এখন ফেশিয়াল, হেয়ার স্টাইলিং সব কিছুই করছি। নিজের লুকটা একটু আলাদা করতে চাই।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের ব্যক্তিগত পরিচর্যার আগ্রহ বেড়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে সেই প্রবণতা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।