পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনেও প্রিয়জনের টানে বাড়ি ফিরছেন নগরবাসী। রাজধানীর গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই যাত্রীদের স্বাভাবিক চাপ রয়েছে। তবে ঈদের আগের দিনের মতো তীব্র ভিড় না থাকলেও নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন রুটের বাস ছেড়ে যাচ্ছে।
রবিবার (২২ মার্চ) দেখা যায়, খুলনা, বরিশাল, মাদারীপুর, পিরোজপুর ও পটুয়াখালীগামী বাসের কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবার নিয়ে, আবার কেউ একাই ছুটছেন গ্রামের বাড়ির পথে। কাউন্টারগুলোর সামনে ছোট ছোট লাইন থাকলেও তা দ্রুতই কমে যাচ্ছে।
মাদারীপুরগামী যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক সমস্যা থাকায় ঈদের দিন ঢাকায় ছিলাম। আজ সকালে এসে সহজেই টিকিট পেয়েছি। ভিড় আছে, তবে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি।
বরিশালগামী আরেক যাত্রী নুসরাত জাহান জানান, গতকাল চেষ্টা করেও যেতে পারেনি। আজ এসে বাস পেয়েছি, তবে ভাড়া কিছুটা বেশি নিচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনেও যাত্রীচাহিদা রয়েছে, তবে তা নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে। একটি বাস ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরবর্তী বাসের টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
ফুলবাড়িয়ার ইমাদ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আব্দুল কাদের বলেন, খুলনা ও বরিশাল রুটে যাত্রী বেশি। তবে ঈদের আগের মতো চাপ নেই। ২০–৩০ মিনিটের মধ্যে একটি বাসের টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে, আবার পরের বাস প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এদিকে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে টার্মিনালজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে। ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে কিছু যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন। পটুয়াখালীগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাড়া সরকার নির্ধারিতের চেয়ে কিছুটা বেশি নিচ্ছে। ঈদের সময় বলে কিছু বলারও সুযোগ থাকে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্বাভাবিক চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। অনেকেই প্রথম বা দ্বিতীয় দিন ঢাকায় কাটিয়ে এখন গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন, ফলে টার্মিনালগুলোতে যাত্রী চলাচল অব্যাহত রয়েছে।