পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা লালবাগ কেল্লায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা ছুটিতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বিনোদনের খোঁজে মানুষের ঢল নামে এখানে। এ ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে এসেছেন বিদেশি দর্শনার্থীরা।
রবিবার (২২ মার্চ) ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই কেল্লার প্রবেশপথে দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যা দুপুর গড়াতেই আরো বাড়তে থাকে।
দর্শনার্থীরা জানান, ঈদের আনন্দকে আরো উপভোগ করতে তারা ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি ঘুরে দেখতে এসেছেন।
রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা শামীম আহমেদ বলেন, “বছরের অন্য সময় কাজের চাপে কোথাও যাওয়া হয় না। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এখানে এসে ভালো লাগছে। ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও মিলছে।”
একই ধরনের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা তানজিলা আক্তার। তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকে লালবাগ কেল্লার নাম শুনে আসছি। এবার ঈদের ছুটিতে এসে ঘুরে দেখছি। পরিবেশটা খুবই সুন্দর, তবে ভিড় একটু বেশি।”
কেল্লা প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা যায়, কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ আবার সবুজ ঘাসে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকেই কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানান। বিশেষ করে টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে দর্শনার্থীদের।
ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি মুঘল আমলে নির্মিত। ১৭শ শতকে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র প্রিন্স মোহাম্মদ আজম শাহ ঢাকায় সুবাদার থাকাকালে ১৬৭৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরে নবাব শায়েস্তা খান এর কাজ সম্পন্ন করেন। কেল্লার ভেতরে রয়েছে পরীবিবির সমাধি, দরবার হল ও হামামখানা, যা মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয়, বরং ঢাকার সংস্কৃতি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঈদের ছুটিতে এমন বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম প্রমাণ করে যে, মানুষের মধ্যে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ এখনও অটুট রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবুও ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে লালবাগ কেল্লা যেন হয়ে উঠেছে নগরবাসীর অন্যতম প্রিয় বিনোদনকেন্দ্র।
ঢাকা/এনটি/ইভা