দেশের তিন বিভাগে দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে রাজধানীতে সূর্যের দেখা মিললেও মাঝে মাঝে আকাশে মেঘ দেখা গেছে। সঙ্গে ছিল ঠান্ডা মৃদু হাওয়া। রাতে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’-এক জায়গায় (১ থেকে ২৫ শতাংশ অঞ্চল) অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
এ সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
রবিবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরে, ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রবিবার দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্ক সংকেত নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
কয়েকদিন ধরেই প্রায় সব বিভাগেই কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। ঈদের দিন শনিবারও সব বিভাগেই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির প্রবণতা বেশি ছিল রংপুর ও বরিশাল বিভাগে।
শনিবার সকাল ৬টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, উপমহাদেশজুড়ে একটি বিস্তৃত বৃষ্টিবলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবেই গত শুক্রবার ও শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। এর রেশ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো কিছু দিন থাকতে পারে।
এদিকে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ওপর একটি বৃষ্টিবলয় সৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া সংস্থাগুলো জানিয়েছে। একটি সরলরেখার মতো (একেবারে সোজা) নিম্নচাপজনিত পশ্চিমা ঝঞ্ঝা তৈরি হয়েছে। সাধারণত পশ্চিমা ঝঞ্ঝা (পশ্চিমা লঘুচাপ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নিম্নচাপ থেকে তৈরি হয় এবং উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে অগ্রসর হয়। এগুলো শীতকালে বেশি সক্রিয় থাকে এবং তুষারপাত ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে আসে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এই ঝঞ্ঝা বাঁক না নিয়ে সোজা একটি ট্রফ বা নিম্নচাপের রেখা হিসেবে বিস্তৃত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলছেন, বাংলাদেশের এই বৃষ্টিপাতে বৃষ্টিবলয়ের ভূমিকা রয়েছে। মার্চ মাসে দেশে কালবৈশাখী শুরু হয়ে যায়। এবারও তার আলামত দেখা যাচ্ছে। মধ্য মার্চ থেকে বেড়েছে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির দাপট। এই ঝড়বৃষ্টির এক ভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে, তা হলো— হঠাৎ করেই স্থানীয়ভাবে মেঘ সৃষ্টি হয়। কালো মেঘে ছেয়ে যায় চারপাশ। এ মেঘ ঝরায় বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিন্তু, এবার একটু ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ চারদিক কালো করে রাজধানীর আকাশে মেঘ জমল। ছিল ঠান্ডা হাওয়া। ৬টার পর থেকেই শুরু হলো বৃষ্টি। কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কথা থাকলেও বৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারের পরিস্থিতিও তা-ই। দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে রাজধানীতে। রাতেও আকাশ ছিল মেঘলা। কোনো কোনো স্থানে ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েছে।