ঈদের ছুটি একদিন আগে শেষ হলেও আজও রাজধানীতে ফিরছে মানুষ। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে, যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ট্রেনগুলো একের পর এক স্টেশনে পৌঁছালেও কমছে না ফিরতি যাত্রীর চাপ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছিল কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল। ট্রেন থেকে নেমেই কেউ ছুটছেন বাস বা সিএনজি স্ট্যান্ডে, আবার কেউ অ্যাপভিত্তিক গাড়ির খোঁজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। ব্যাগ-সুটকেস হাতে পরিবারসহ ফিরছেন অনেকে, আবার একা কর্মস্থলে ফেরা তরুণদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
রেলওয়ে তথ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৩টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধূমকেতু, পর্যটক, নীলসাগর, মহানগর, সুন্দরবন, বুড়িমারী, রংপুর, তিতাস, একতা, রূপসী বাংলা, জয়ন্তিকা, অগ্নিবীণা ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস।
লালমনিরহাট থেকে আসা ইমদাদা হক বলেন, “ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেছে, তবুও আজ ফিরতে হলো। ট্রেনে অনেক ভিড় ছিল, দাঁড়িয়ে আসতে হয়েছে।”
চট্টগ্রাম থেকে আসা রাশেদা নাহার বলেন, "টিকেট না পাওয়ায় গতকাল ফিরতে পারিনি, তাই আজ ভিড়ের মধ্যেই আসতে হলো। বাচ্চাদের স্কুল, তাই দেরি করার সুযোগ নেই।”
পঞ্চগড় থেকে আসা কামরুল হাসান বলেন, “অফিস গতকাল থেকেই খোলা, কিন্তু টিকিট না পাওয়ায় ফিরতে পারিনি। এখন সরাসরি অফিসেই যেতে হবে।"
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ঈদের পর ফিরতি যাত্রীদের কয়েকদিন চাপ থাকে। এটি স্বাভাবিক চিত্র। এবার ঈদ যাত্রায় পাঁচ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছে। ঈদের আগে তিন জোড়া ট্রেন যুক্ত হয়েছিল। ঈদের পর ফিরতি যাত্রীর চাপ সামলাতে আরও দুই জোড়া ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাত্রীদের সহায়তায় কাজ করছেন।”
স্টেশন চত্বরের বাইরে সিএনজি ও রিকশার জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এসময় ভাড়া নিয়ে অসন্তোষের কথাও জানান যাত্রীরা।