জাতীয়

ঈদ শেষে সদরঘাটে স্বাভাবিক ফিরতি যাত্রা, নেই ভোগান্তি

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রায় এবার তেমন কোনো ভোগান্তি দেখা যাচ্ছে না। ছুটির দ্বিতীয় দিনেও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীচাপ ছিল স্বাভাবিক।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সদরঘাট ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো একে একে ভিড়ছে ঘাটে। যাত্রীরা নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। টার্মিনালে বিআইডব্লিউটিসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপর উপস্থিতিও চোখে পড়েছে, যাতে ফিরতি যাত্রা স্বস্তিদায়ক থাকে।

বরিশাল থেকে আসা ‘সুন্দর-১০’ লঞ্চের যাত্রী সোহাগ বিশ্বাস বলেন, “আগের বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা অনেক স্বস্তির ছিল। ফেরার পথেও তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। যাত্রীচাপ কম থাকলেও লঞ্চ পূর্ণ ছিল এবং ভাড়াও আগের মতোই রাখা হয়েছে।”

ভোলা থেকে ‘কর্ণফুলী-১১’ লঞ্চে আসা বজলু রহমান জানান, তারা নির্বিঘ্নেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। ডেকভাড়া ৩০০ টাকাই রাখা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের মতোই। লঞ্চ সময়মতো ছেড়েছে এবং ঠিক সময়েই সদরঘাটে পৌঁছেছে।

তিনি আরো বলেন, “ঘাটে নেমে কুলিরা কোনো অতিরিক্ত টাকা ছাড়াই তাদের মালপত্র গাড়িতে তুলে দিতে সহায়তা করেছে।”

পটুয়াখালী থেকে ‘ঈগল-৫’ লঞ্চে আসা পোশাকশ্রমিক নাজমা খাতুন বলেন, “এবারের ঈদে যাওয়া-আসা দুই পথেই স্বস্তি ছিল। লঞ্চে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি, নির্ধারিত সিটে ভ্রমণ করতে পেরেছেন এবং বাড়তি ভাড়াও দিতে হয়নি।”

ঈদ-পরবর্তী যাত্রী পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, “এখন পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়েই ঘাটে পৌঁছাচ্ছে এবং কোথাও কোনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি। যাত্রীচাপও স্বাভাবিক রয়েছে, তবে আগামী কয়েক দিনে তা বাড়তে পারে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”