পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। গ্রাম-শহরের আপনজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটিয়ে কর্মস্থলমুখী হচ্ছেন হাজারো মানুষ। এতে ধীরে ধীরে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে রাজধানী। তবে এবারের ফেরার যাত্রা স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মহাখালী বাস টার্মিনালে ঢাকায় ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই দূরপাল্লার বাসগুলো একের পর টার্মিনালে প্রবেশ করছে। বাস থেকে নামছেন ক্লান্ত যাত্রীরা, হাতে ব্যাগ-লাগেজ। কেউ সরাসরি কর্মস্থলের উদ্দেশে যাচ্ছেন, কেউ আবার বাসায় পৌঁছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। ঈদের আগে যেমন রাজধানী ছাড়ার চাপ ছিল, এখন ঠিক উল্টো চিত্র। কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম হলেও বাস থেকে নামা যাত্রীদের উপস্থিতিতে পুরো টার্মিনাল এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে।
বাস টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার ভোর থেকেই বাসে করে ঢাকায় ফিরছেন হাজার হাজার যাত্রী। তবে ঈদের ছুটি শেষেও রাজধানী ছাড়ার চাপ কিছুটা রয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিন থেকে ধীরে ধীরে ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ছুটি শেষ হওয়ার আগের দিন ও শেষ দিনে এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে দিনের শুরুতে ঢাকার বাইরে যাওয়ার যাত্রীর সংখ্যাও কম ছিল না। অনেকেই ঈদের পরবর্তী ছুটির সুযোগে এখনো বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। ফলে সকালে দুই ধরনের যাত্রীর উপস্থিতিতে কিছুটা মিশ্র চিত্র দেখা গেছে মহাখালী এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। দূরপাল্লার বাসগুলো একের পর এক টার্মিনালে এসে পৌঁছালে যাত্রীদের চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে সকালে নেত্রকোনা থেকে ঢাকা ফেরা ভুঁইয়া পরিবহনের সুপারভাইজার বলেন, “ঈদ শেষে যাত্রীরা এখন ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। আরো তিন-চার দিন ঢাকায় যাত্রীদের ফেরার চাপ থাকবে।”
নওগাঁ থেকে ঢাকায় ফেরা শাহ্ ফতেহ্ আলী পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, “পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ ভালো কেটেছে। এখন কাজে যোগ দিতে ফিরেছি। এবারের যাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক হয়েছে।”
সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দ শেষে আবারও কর্মমুখর হয়ে উঠছে রাজধানী। প্রিয়জনদের স্মৃতি বুকে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন নগরবাসী।