‘জুলাই সুরক্ষা’ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে তোলার প্রস্তাবও এসেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “সংবিধান ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ‘জুলাই সুরক্ষা’ বিষয়ক চারটি অধ্যাদেশ নিয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে।”
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ১২টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো বিল আকারে সংসদে তোলার বিষয়ে সদস্যরা একমত হয়েছেন। তবে কিছু অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রাখা এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনী আনার প্রস্তাবও এসেছে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বয়সসীমা ৩৩ থেকে ৩৫ বছর করার প্রস্তাব এলেও অধিকাংশ সদস্য ৩২ বছর নির্ধারণের পক্ষে মত দেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অধ্যাদেশগুলো তিন ভাগে ভাগ করে চূড়ান্ত করা হবে। প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ বর্তমান অবস্থায় বিল হিসেবে পাস করা হবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, সেগুলো এই অধিবেশনেই বাতিল হয়ে যাবে; প্রয়োজনে পরে নতুন করে বিল আনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের পর্যালোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানবাধিকার কমিশন আইনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরো আলোচনা প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ইতিমধ্যে প্রায় ১২০টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সংবিধান ও জুলাই সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অধ্যাদেশ নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ আবার বৈঠক হবে।”
বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী নতুন আইন পাসের আগে বিদ্যমান অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করা জরুরি, নইলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। পরে সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয় এবং আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জারি করা কোনো অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করতে হয়; সংসদ অনুমোদন না দিলে সেটি বাতিল হয়ে যায়।।