মহান বিজয় দিবস আজ। সরকারি ছুটির দিনেও তেল নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী। নগরীর তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকার সকল পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের। ফলে বিকল্প হিসেবে বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে ভিড় জমিয়েছেন তারা। এতে ওই এলাকায় জ্বালানি তেল নেওয়ার অপেক্ষায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ লাইন ঠেকেছে মহাখালী রেলগেট পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকে তেজগাঁও, মহাখালী ও বিজয় সরণি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরোজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিজয় দিবসের ছুটির দিনে রাজধানীর তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকার প্রায় সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় চালকদের ভরসা একমাত্র বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। তবে সেখানেও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। এদিন সকাল ৮টা থেকে ফিলিং স্টেশনটিতে রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) কাজ চলায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। এতে সকাল থেকেই তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। তবে সোয়া ১২টার পর থেকে তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ সময় অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি বিজয় সরণি ছাড়িয়ে মহাখালী রেলগেট পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। এতে ওই এলাকায় অপেক্ষারত যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
চালকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে পাম্প বন্ধ থাকায় তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল নিতে পারছেন না। এতে জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষজনও পড়েছেন বিপাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালিত ট্রাস্ট এনার্জির সহকারী পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবুল আলা মুহাম্মদ তৌহীদ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, "আমাদের কাছে যে পরিমাণ তেল মজুদ আছে তা দিয়ে আমরা রাত পর্যন্ত চালাতে পারব। এরপর তেল মজুদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখব। তেল মজুদ হলে আমরা পুনরায় তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করব।"
মহাখালী রেল গেটের সামনে তেল নেওয়ার অপেক্ষারত একজন প্রাইভেটকারচালক বলেন, “সকাল ছয়টা থেকে তেলের জন্য অপেক্ষায় আছি। দুপুর ১২টার পর থেকে তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তা আল্লাহই ভালো জানেন।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষারত একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, “যখনই তেল নিতে আসি তখনই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। আজকে এই পেট্রোল পাম্পে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালায় আরো বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।”