পবিত্র ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পর বাড়তি ছুটির সুবিধা নিয়ে যারা আরো কয়েকদিন গ্রামের বাড়িতে ছিলেন, তারাও এবার ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীতে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীতে ফেরা মানুষে মুখর পুরো স্টেশন এলাকা।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ট্রেনগুলো একের পর এক স্টেশনে পৌঁছালেও কমেনি যাত্রীদের চাপ। প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছিল ব্যস্ততা—কেউ ট্রেন থেকে নেমেই ছুটছেন বাস বা সিএনজি স্ট্যান্ডের দিকে, আবার কেউ মোবাইল অ্যাপে গাড়ি খুঁজতে ব্যস্ত। ব্যাগ-সুটকেস হাতে পরিবারসহ ফেরা যাত্রীদের পাশাপাশি একা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ফেরা তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
রেলওয়ে তথ্যকেন্দ্র সূত্র জানায়, দুপুর ১ টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন রুট থেকে ২৫ টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকায় পৌঁছেছে। সারদিনে ৪৪টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসবে। ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের চাপ সামলাতে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেনও চলাচল করছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা মাহবুব আলম বলেন, “ঈদের ছুটি তো আগেই শেষ, পরে দুইদিন সাধারণ ছুটি নিয়ে আরো কয়েকদিন বাড়িতে ছিলাম। সময়মতো ট্রেন পৌঁছেছে এটাই স্বস্তি।”
পঞ্চগড় থেকে আসা নাহার সরকার বলেন, “বাচ্চাদের স্কুল আর নিজের অফিস—সব মিলিয়ে আর দেরি করা যাচ্ছিল না। বাড়তি ছুটি শেষ, ফিরতে হলো।ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল।তবে ট্রেন সময়মতো পৌঁছেছে।”
সিলেট থেকে আসা রাকিব হোসেন বলেন, “অফিস খোলা ছিল আগেই, কিন্তু অতিরিক্ত ছুটি নিয়ে বাড়িতে ছিলাম। আগামীকাল থেকে অফিস, তাই ফিরলাম।”
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ঈদের পর কয়েকদিন ধরে ফিরতি যাত্রীর চাপ থাকে, আর যারা বাড়তি ছুটি নিয়েছিলেন, তাদের ফেরার কারণে এই চাপ আজ আরো বেড়েছে। ঈদ যাত্রাকে ঘিরে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে রেলওয়ে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু রেখেছে।”
তিনি আরো বলেন, “স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”
এদিকে স্টেশন চত্বরের বাইরে সিএনজি ও রিকশার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে যাত্রীদের। অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন।