ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে সারা দেশে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষা ও বাণিজ্য দুই খাতেই আসতে পারে নতুন সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্র বলছে, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে দোকানপাট বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টায় নামিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এর আগে করোনাকালে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সময়সূচি কার্যকর ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে রাত ১০টা–১১টা পর্যন্ত চলছে।
শিক্ষা খাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় সপ্তাহে এক দিন অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাব উঠেছে। তবে কিছু মহল থেকে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালুর প্রস্তাবও এসেছে। এ ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় দিনে ক্লাস ভাগ করার চিন্তাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আপাতত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সীমিত আকারে সপ্তাহে এক দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা চালু থাকবে।
গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সশরীর ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
এদিকে, ব্যবসায়ীরাও নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। দোকান মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, অফিস শেষে মানুষের কেনাকাটার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা প্রয়োজন।
এর আগে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীরা আলোকসজ্জা ৪০ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবু বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি সংকট বাংলাদেশকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
ঢাকার একটি সরকারি কলেজের শিক্ষক সাবের হোসেন বলেন, “অনলাইন শিক্ষা কখনোই শ্রেণিকক্ষের পূর্ণ বিকল্প নয়। তবে সংকটের সময়ে সীমিত বিকল্প হিসেবে এটি বাস্তবসম্মত একটি পথ হতে পারে।”