জাতীয়

মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: তদন্তে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তর

কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। শনিবার (৪ এপ্রিল) জারি করা এক চিঠিতে অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়। 

চিঠিতে বলা হয়, ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাওয়ায় তা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ, পরীক্ষা পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ বিষয়ক দিকগুলো পর্যালোচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন: ‌‘অনেক শখ ছিল মেয়ে ডাক্তার হবে, কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল’

এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন- অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা)। কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ-এর অধ্যক্ষকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শৃঙ্খলা)।

কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে- ঘটনার পেছনের বাস্তব কারণ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদান ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা বিশ্লেষণ, এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর ওপর কোনো ধরনের মানসিক চাপ, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক আচরণ হয়েছিল কি না তা যাচাই করা হবে। অভিযোগ থাকলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মকর্তার ভূমিকা পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া কলেজ প্রশাসনের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সুপারিশ প্রণয়নও কমিটির দায়িত্বের মধ্যে পড়বে।

মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, পড়াশোনার শুরু থেকেই নানা কারণে চাপে ছিলেন অর্পিতা। বিশেষ করে এনাটমি বিষয়ে বারবার ব্যর্থতা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। কয়েক দফা পরীক্ষায় অংশ নিয়েও সফল না হওয়ায় হতাশা বাড়তে থাকে।

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। খুলনার বাসিন্দা অর্পিতা নওশিন পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তিনি মেডিকেলে ভর্তি হন। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি। শনিবার বিকেলে কুমিল্লায় ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়ি খুলনায় নেওয়া হয়।