বাংলাদেশে পুলিশে সংস্কার ও বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, “সরকার এ লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়।”
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে তার সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এ সময় ইইউর সহযোগিতা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তারা পুলিশ সংস্কার, নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কৌশল ও বাণিজ্য সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউর রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান মাইকেল মিলার।
পুলিশ সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরামর্শ সেবা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে।”
প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়নে ইইউ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ইইউর রাষ্ট্রদূত বলেছেন, “এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।”
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”
দুর্নীতি দমনে ইইউর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রাষ্ট্রদূত শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রণয়নের ওপর জোর দেন এবং এ ক্ষেত্রে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতে দ্রুত সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সচিব রেবেকা খানসহ ইইউ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।