জাতীয়

তেলের জন্য আজও পাম্পে দীর্ঘ সারি

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়লেও, দেশের ভেতরে তেলের কোনো ঘাটতি নেই- সরকারের এমন আশ্বাসের বাস্তব চিত্র যেন ভিন্ন গল্প বলছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে দীর্ঘ যানের সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকরা।

সরেজমিনে রমনা, শাহবাগ, বিজয় সরণি, মতিঝিল ও সংসদ ভবন এলাকার কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা যায় ভোর থেকেই মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির লম্বা লাইন। কোথাও সেই সারি কয়েকশ মিটার ছাড়িয়ে গেছে, আবার কোথাও এক কিলোমিটারের বেশি পৌঁছেছে।

মতিঝিল এক পাম্পে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেলচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, “সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো তেল পাইনি। সংকট না থাকলে এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে কেন?”

একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন শাহবাগ এলাকায় প্রাইভেটকার চালক মোখলেস মিয়া। তিনি বলেন, “ছুটির দিনটা পরিবারের সঙ্গে কাটানোর কথা ছিল, কিন্তু গত চার সাপ্তাহ ছুটির দিনে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”

বিভিন্ন পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায় থাকা মানুষের সাঙ্গে কথা বলা জানা যায়, অনেকে এক পাম্প থেকে তেল না পেয়ে আরেকটিতে গিয়ে আরো দীর্ঘ লাইনের মুখে পড়ছেন। এতে ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্ষোভও জমছে। সংকট নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

সরবরাহ সীমিত থাকায় পাম্পগুলো থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং প্রাইভেটকারে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক রাইজিংবিডিকে ডটকমকে বলেন, “তেল সংকটে সকাল থেকে আমার পাম্প বন্ধ রয়েছে। সরকার সংকট না থাকার কথা বললেও ডিপো থেকে প্রয়োজনমতো তেল মিলছে না। পাম্প মালিকরা যা পাচ্ছে, তা-ই গ্রাহকদের দিচ্ছে।”

অন্যদিকে জ্বালানি বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) এক ব্রিফিংয়ে জানান, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসেও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তার দাবি, রাজধানীতে কিছুটা চাপ থাকলেও এটি মূলত অতিরিক্ত চাহিদা বা ‘প্যানিক বায়িং’-এর ফল, সরবরাহ ঘাটতির নয়।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন ডিজেল, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই বিদেশ থেকে নতুন চালান আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।