রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য— প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের মানুষদের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া। যারা খরচ, দূরত্ব ও আইনি সচেতনতার অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে এ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইন ও বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তারা ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করলেই সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সরকার নির্ধারিত প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে।”
তিনি বলেন, “১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের সূচনা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদপ্তরে উন্নীত করার অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করা হয়েছে।”
মন্ত্রী আরো বলেন, “আমরা চাই, লিগ্যাল এইড সুবিধা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাক। এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই উদ্যোগের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে।”
এ সময় দুজন নারীকে তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ প্রদান করেন আইনমন্ত্রী। একইসঙ্গে বস্তিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ন্যায়বিচারে সমতা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক আইনি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিআইজেড বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস ফর উইমেন’ প্রকল্পের আওতায় প্যারালিগ্যালদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আইনি সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া, নারী-নেতৃত্বাধীন কমিউনিটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৬ হাজারেরও বেশি বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন— বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এম এ আউয়াল এবং জিআইজেড বাংলাদেশের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর (গভর্ন্যান্স) ও হেড অব প্রোগ্রাম মার্টিনা বুকার্ড।
মানুষের কাছে আইনি সহায়তা আরো সহজলভ্য করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নয়টি স্থানে পর্যায়ক্রমে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। এসব স্থানে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরা বিনামূল্যে পরামর্শ দেবেন এবং প্রশিক্ষিত প্যারালিগ্যালরা সেবাগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।