জাতীয়

পাম্পে নেই দীর্ঘ লাইন, জ্বালানি তেল পাচ্ছে সব গাড়ি

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশের পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে তেল নিতে হয়েছে গাড়ি চালকদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু করার পর রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। পাম্পগুলোতে আগের মতো দীর্ঘ লাইন নেই এবং গাড়িগুলো তাদের চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর নীলক্ষেত, শাহবাগ, রমনাসহ বিভিন্ন পাম্পগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইন নেই, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ সব পরিবহন তাদের চাহিদা মত জ্বালানি নিচ্ছে।

রাজধানীর রমনা পেট্রল পাম্পে নিজের মোটরসাইকেলর জন্য অকটেন নিতে আসা তৌহিদুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন,‌ “বিগত দিনগুলোতে জ্বালানি সংকটের সময়ের কথা ভাবতেই এখনো ভয় লাগে। আজকে পাম্পে আসা মাত্রই ফুল টেংকি তেল নিতে পেরেছি। কোন ঝামেলা হয়নি।”

একই পাম্পের তেল নিতে আসা আরেক রাইড শেয়ারিং চালক রাসেল সিকদার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “গত সপ্তাহেও তেলের জন্য কয়েকটা পাম্প ঘুরতে হয়েছে। আজ এসে দেখি ভিড় নেই। যতটুকু চেয়েছি ততটুকুই পেয়েছি। কোনো লিমিট (সীমাবদ্ধতা) নেই দেখে ভালো লাগছে।”

রাজধানীর নীলক্ষেতের পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি নিতে আসেন জামাল উদ্দিন। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়ালে রাস্তা ব্লক হয়ে যেত, ট্রাফিক পুলিশের কথা শুনতে হতো। এখন পাম্পের ভেতরে গাড়ি রাখার জায়গা খালি পড়ে আছে। তেল নিতে কোনো ঝামেলাই হলো না।”

একই পাম্পের কর্মচারী আনিসুল হক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আগে মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। তেলের পরিমাণ কম থাকলে গ্রাহকদের সাথে কথা কাটাকাটি হতো। এখন সাপ্লাই খুব ভালো। কোন লাইন নেই।”

রমনা পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী রাফাত আহমেদ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এখন ডিপো থেকে নিয়মিত গাড়ি আসছে। স্টকে কোনো ঘাটতি নেই। এখন আর আমাদের ‘তেল নেই' বোর্ড ঝোলাতে হচ্ছে না। সব গাড়ি তাদের চাহিদা মত তেল নিচ্ছে। মাঝে মাঝে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে স্বাভাবিক হয়ে পরিস্থিতি।”

রমনা পেট্রোল পাম্পের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হক বলেন, “এখন জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। সব গাড়ি তাদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি নিতে পারছে।”

১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন সমন্বয় অনুসারে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।