জাতীয়

জলাবদ্ধতা নিরসনে মে দিবসের ছুটিতেও কাজ করছেন তারা  

মহান মে দিবেসর ছুটিতেও থেমে নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজ। গতকাল রাত থেকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট অস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ভোর থেকেই মাঠে নেমেছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা।

আজ শুক্রবার ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান বলেন, ‘‘মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসেও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ভোর থেকে কাজ করছেন ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা। সবার অবদানেই ঘুরছে চাকা, সবার অবদানেই টিকে আছে আমাদের ঢাকা।’’

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ  মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে গতকাল রাত থেকে ৭৫টি ওয়ার্ডে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে সতর্ক রাখা হয়। ভোর ৫টা থেকে তারা ড্রেনের মুখে জমে থাকা পলিথিন, বোতল ও বর্জ্য অপসারণ শুরু করেন। এ কারণে শান্তিনগর, মালিবাগ, রাজারবাগ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, জুরাইন, শ্যামপুর এলাকায় পানি দ্রুত নেমে গেছে। 

ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) জানান, ১০টি কুইক রেসপন্স টিম ও ৮টি ভ্যাকুয়াম ট্রাক জলাবদ্ধতাপ্রবণ ৩২টি স্পটে কাজ করছে। নর্দমার পানি যাতে আটকে না যায়, সেজন্য ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। প্রশাসক ভোরেই কন্ট্রোল রুম থেকে কাজ তদারকি করছেন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন।

রাজধানীর ওয়ার্ড-৪৮ এর পরিচ্ছন্নতা কর্মী রহিম হোসেন বলেন, ‘‘আইজ মে দিবস। ছুটির দিন। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় স্যারেরা ফোন দিল। ভোরে আইসা নামছি। পানি না সরাইলে মানুষ কষ্ট পাইব। আমরার কামই তো শহর পরিষ্কার রাখা।’’

‘‘রাইত থিকা পানি জমছিল। ভোরে আইসা পলিথিন সরাইছি। এখন রাস্তা শুকনা। মানুষ যাইতে পারতাছে, ভালো লাগতাছে,’’ বলেন ধোলাইখালে কাজ করা সুইপার কালমক হোসেন। 

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, ‘‘সকাল ৮টায় বের হয়ে দেখি মেইন রোডে হাঁটুপানি। ১০টায় ফেরার সময় দেখি পানি নেই। ডিএসসিসির লোকজন ড্রেন পরিষ্কার করেছে। মে দিবসেও তারা কাজ করছে, এটা প্রশংসার।’’ 

তবে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের ব্যবসায়ী আবদুল বাসেত অভিযোগ করে বলেন, ‘‘গলির ভেতর এখনো পানি আছে। শুধু বড় রাস্তা পরিষ্কার করলে হবে না।’’

মে দিবস উপলক্ষে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে কর্মীদের উন্নত খাবার ও বাড়তি ভাতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান। তিনি বলেন, ‘‘শ্রমের মর্যাদা স্লোগানে নয়, কাজে। আজ যারা ছুটি না নিয়ে নগরবাসীর কষ্ট লাঘবে নেমেছেন, তারাই প্রকৃত শ্রমিক। তাদের শ্রমেই সচল থাকে ঢাকা।’’