কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘‘এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। এর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া ও ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর প্রাপ্যতা রয়েছে। আশাকরি চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি, কোনো শর্টেজ হবে না। ফলে কোরবানির পশু আমদানি করা হবে না।’’
রবিবার (৩ মে) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি গবাদিপশু থাকায় এ বছর কোরবানি ঈদের জন্য পশু আমদানি করা হবে না। অবৈধ পথে কোনোভাবেই গবাদিপশু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ নিয়ে কাজ করবে।’’
কোরবানির ঈদে বাজার যেন কেউ অস্থিতিশীল করতে না পারে সেজন্য মন্ত্রী বলেন, ‘‘অতীতের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোর হবে। চাঁদাবাজির কারণে পশুর দাম যেন না বাড়ে, সে জন্যও সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’’
সারাদেশে ৩ হাজার ৬৭৮টি হাট বসবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৭টি পশুর হাট বসবে। এসব হাটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল দল ও ২টি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল নিয়োজিত থাকবে।’’
অনলাইনে পশু বিক্রি হবে এবারও। এর জন্য কোন খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না। এছাড়া যেন নষ্ট না হয় এজন্য কোরবানির চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোরবানির প্রাণী সরবরাহের জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘চলতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনে প্রাণী সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, রাস্তা ও পশুর হাটে কঠোরভাবে চাঁদাবাজি রোধ করতে কাজ করবে সরকার।’’
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোরবানির পশুর অবাধ চলাচল/পরিবহন নিশ্চিতকল্পে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। কোরবানির পরে ৩৩ লাখ ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত ছিল।