জাতীয়

কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের নি‌র্দেশনা মন্ত্রীর

কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নি‌র্দেশনা দি‌য়ে‌ছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তি‌নি বলেছেন, “মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ থাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, “সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং নির্বাচনি  অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ঋণ সুবিধা, প্রণোদনা এবং বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ কার্যক্রম চালু রেখেছে।”

তিনি বলেন, “দেশের প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও আরো দৃঢ় হবে।”

দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, “প্রাকৃতিক মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় দেশি মাছ বিলুপ্তির পথে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গ্রামভিত্তিক মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষ সহজে মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারে।”

কীটনাশকের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মুক্তা চাষসহ বিকল্প কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে এবং এটিকে কৃষির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “মাঠ প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে জেলা প্রশাসকরাই রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা দক্ষতা, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়েছেন, যা জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

তিনি বলেন, “একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচিতি থাকলেও সরকার মাছ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।”

জেলেদের সহায়তায় গৃহীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভিজিএফ কর্মসূচির পাশাপাশি সম্প্রতি প্রায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই মাসের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।”