টানা বৃষ্টিপাতের জন্য সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে বাজারে বেড়েছে মুরগি, মাছ ও সবজির দাম। বিক্রেতারা বলছেন, এখন ৬০ টাকার নিচে দু-একটি ছাড়া কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ডিমের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর হাজারীবাগ, নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
এখন বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থাকে ১২০ টাকা। দেশি শশা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০টাকা, গাজর (দেশি) ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচমরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির জন্য উৎপাদন ব্যাহত ও জ্বালানি তেলের দামের জন্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম। এখন বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী ২০০ থেকে ২২০ টাকা, আকারভেদে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি কেজি দেশি শিং মাছ আকারভেদে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, রূপচাঁদা ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায়। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ডজন প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত মাসে এই সময়ে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে।
এছাড়া, মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
যা বলছে ক্রেতা বিক্রেতারা রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাঈম মুন্সী বলেন, “বাজারে সব কিছুর দাম বাড়তি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর আস্তে আস্তে সবকিছুর দাম বাড়ছে। গত মাসে আমি এক ডজন ডিম নিয়েছি ১১০ টাকা করে, আজ চাচ্ছে ১৪০ টাকা। আমার বেতন তো আর প্রতি মাসে বাড়ে না, মাছ মাংসের কথা বাদ দিলাম। এখন বাসা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় খেয়ে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্যের ব্যপার।”
একই বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. আল হাসিব রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এখন ডিম উৎপাদন কম। এছাড়া পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই ডিমের দাম বাড়তি। এখানে আমাদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীদের কোন হাত নেই।"
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসে বেগুনের দাম ৮২ শতাংশ, কাঁচা মরিচের দাম ৬৭ শতাংশ ও শসার দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। হালিপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ।