কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি অতল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী সর্বাগ্রগণ্য প্রতীকী ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সৃজনশীলতা, মানবতাবাদ ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির আদর্শের মূর্ত প্রতীক। যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করে চলেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে (আইজিসিসি) আয়োজিত শিল্প প্রদর্শনী ‘সম্প্রীতি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে, হাই কমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের মাঝে বিদ্যমান অভিন্ন শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, শিল্পকলা হলো অন্যতম শক্তিশালী একটি মাধ্যম, যার দ্বারা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যকার বন্ধন সীমান্ত অতিক্রম করে প্রকাশিত ও পুনর্নবীকৃত হয় এবং সংলাপ, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ক্ষেত্র সৃষ্টি করে।
প্রদর্শনীতে দুই দিনব্যাপী একটি আর্ট ক্যাম্পে ৩৩ জন প্রখ্যাত সমসাময়িক বাংলাদেশি শিল্পীর শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে, যাদের মধ্যে অনেকেই আইসিসিআর স্কলার। তাদের মধ্যে রয়েছেন রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, আব্দুস শাকুর, আব্দুস সাত্তার, ফরিদা জামান, রঞ্জিত দাস, জামাল আহমেদ, নাইমা হকসহ আরও বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি শিল্পী।
প্রবীণ শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী ও মনিরুল ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সম্প্রীতি’ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও বেশি করে শিল্পী বিনিময়ের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলবে। এই প্রদর্শনী সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করা এবং ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে আইজিসিসি ও ভারতীয় হাই কমিশনের অব্যাহত অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
প্রদর্শনী ৮ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত আইজিসিসিতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।