দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন সংশোধনের পর এবার স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দলীয় নির্বাচনের বাস্তবতায় স্বতন্ত্র প্রার্থিতার শর্ত শিথিল, পোস্টারবিহীন প্রচার এবং অনলাইন মনোনয়ন বাতিলসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্প্রতি যে সংস্কারগুলো আনা হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন বিধি ও আচরণবিধি নতুনভাবে সাজানো হবে। এরইমধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদ নির্বাচনের বিধিমালায় সম্প্রতি পোস্টার নিষিদ্ধ, নির্বাচনি ব্যয় ও জামানত বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার নিয়ম নির্ধারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এসব বিষয়ে সমন্বিত নীতিমালা আনার চিন্তা চলছে।
নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু স্থানীয় নির্বাচন এখন নির্দলীয় কাঠামোয় হবে, তাই আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালার অনেক ধারা নতুনভাবে সাজাতে হবে। বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনের বিধিগুলো আলাদা হলেও সমন্বিত কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে কমিশন।
বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এরইমধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনের তথ্য হালনাগাদে একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে ১৫ মে’র মধ্যে সর্বশেষ নির্বাচন, গেজেট, শপথ, ওয়ার্ড বিন্যাস ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “স্থানীয় সরকারের কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে সে বিষয়ে এখনো সরকার থেকে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে কমিশন সম্ভাব্য সংস্কার নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।”
বিধি পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে নির্দিষ্টসংখ্যক ভোটারের সমর্থনপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা বাতিলের চিন্তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা নাও হতে পারে।”
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে আর ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।
এদিকে, সরকারও দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীর বলেছেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।”