জাতীয়

অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ বা কাগুজে পরিকল্পনা করা হবে না: তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, “অতীতের মতো অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ বা কাগুজে পরিকল্পনা করা হবে না। জনগণের মতামত ও বাস্তবতার ভিত্তিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন এই কৌশলপত্রে থাকবে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য, খাতভিত্তিক পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ব্যবস্থা।”

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পরিকল্পনা কমিশনে অর্থনৈতিক কৌশলপত্র প্রণয়ন সংক্রান্ত অ্যাডভাইজারি কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “অতীতে পরিকল্পনা কমিশনকে রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। পরিকল্পনা দলিলের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা না রেখে পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি বজায় রাখা হয়েছে এবং অযৌক্তিক ব্যয় বাড়িয়ে দেশকে ঋণের মধ্যে ফেলা হয়েছে। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকার পরিকল্পনা প্রণয়নের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে।”

তিনি বলেন, “নতুন কৌশলপত্রে শুধু সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণই নয় বরং পূর্বের পরিকল্পনাগুলোর লক্ষ্য কেন অর্জিত হয়নি তার বিশ্লেষণও থাকবে। একইসঙ্গে খাতভিত্তিক পরিকল্পনার আলোকে মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রকল্প প্রস্তাব দিতে হবে।”

তিতুমীর জানান, পরিকল্পনা প্রণয়নে অর্থনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। জনগণের নির্বাচনি রায় ও ইশতেহারকে ভিত্তি করেই এই পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,“এটি শুধু একটি রচনা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা। এজন্য আমরা এটিকে ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নাম দিয়েছি।”

তিনি বলেন,“প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছরের পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। সেগুলোর ভিত্তিতেই সামগ্রিক কৌশলপত্র চূড়ান্ত করা হচ্ছে।”

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রবাহ বাড়ানোর কথাও জানান আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে ড্যাশবোর্ড চালুর মাধ্যমে কোন এলাকায় কী প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং তার অগ্রগতি জনগণ দেখতে পারবে।”

প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অতীতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেনি। এখন প্রকল্প অনুমোদন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জোনায়েদ সাকি।