জাতীয়

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ না দিলে লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি ঐক্য পরিষদ। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১২ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি সেখান থেকেই লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সমন্বয়ক লুতফর রহমান বলেন, “অতীতেও গেজেট প্রকাশের আগের তারিখ থেকে পে-স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। তাই এবারও জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘২০১৫ সালের পে-স্কেলে বাতিল হওয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, ব্লক পোস্টে কর্মরতদের পদোন্নতি বা পাঁচ বছর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান, টেকনিক্যাল কর্মচারীদের বিশেষ মর্যাদা নিশ্চিত করা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশন চালু, বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালু করতে হবে।’’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘সচিবালয়ের বাইরে কর্মরত অনেক কর্মচারী দীর্ঘ চাকরি জীবনেও কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পান না। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে এলেও দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাই আগামী বাজেট অধিবেশনের আগে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত না হলে ১২ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।’’

এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নেতারা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি ঐক্য পরিষদের মূখ্য সমন্বয় মো. ওয়ারেস আলী বলেন, ‘‘প্রশাসন ক্যাডারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের দুর্দশার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। একজন সচিব বা সিনিয়র সচিবের জন্য গাড়ি ঋণ, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা সুবিধা থাকলেও ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা বেতন-বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দ্রুত বৈষম্য থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।’’