জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার (১৬ মে) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
শোকবার্তায় বলায় হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ও সংস্কৃতিকর্মী কারিনা কায়সার ভারতের ভেলোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।
বার্তায় বলা হয়, গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ তিনি লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় (হেপাটাইটিস এ এবং ই) আক্রান্ত হন। প্রথমে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।
শোকবার্তায় কারিনা কায়সারের পরিচয় তুলে আরো বলা হয়, তিনি সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদের কন্যা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত দাবাড়ু রানী হামিদের নাতনি। তিনি তার এই পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। কারিনা কায়সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন।
কারিনা কায়সারের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভূমিকা উল্লেখ করে শোকবার্তায় বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিঝরা সময়ে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে তাঁর দৃঢ় অবস্থান আমাদের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি শুরু থেকেই আন্দোলনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন। ন্যায়, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে তাঁর সোচ্চার উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে এবং আন্দোলনকালীন সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে একটি শক্তিশালী নৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি কেবল একজন সংস্কৃতিকর্মীই ছিলেন না, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান গ্রহণকারী এক সাহসী কণ্ঠস্বর ছিলেন।
শোকবার্তায় বলায় হয়, তার অকাল মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক ও ডিজিটাল অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এনসিপি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।