জাতীয়

বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক পণ্যে কার্যকর দাম বৃদ্ধির দাবি 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) ও তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট)।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে উবিনীগ ও তাবিনাজ-এর যৌথ আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তাবিনাজ সদস্য সীমা দাস সীমু বলেন, ‘‘বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার আজ একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের মধ্যেও তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও তামাক ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার আশেপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শরীরে উচ্চমাত্রার নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহতা নির্দেশ করে।’’

প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালে মৃত্যুবরণ করছে। এই মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ক্ষতি নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতি, উৎপাদনশীলতা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘‘তামাকের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বিশাল ক্ষতি হচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, তামাক থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার তুলনায় স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে তামাককে শুধু রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং এটি দেশের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

‘‘বাংলাদেশের বর্তমান তামাক কর কাঠামো অত্যন্ত জটিল এবং অকার্যকর উল্লেখ করে সীমা দাস সীমু বলেন, ‘‘বিশেষ করে সিগারেটের চার স্তরবিশিষ্ট মূল্য কাঠামো- নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে ব্যবহারকারীদের এক স্তর থেকে আরেক স্তরে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা কমানো, সিগারেটের মূল্যান্তর হ্রাস করা এবং প্রতিটি প্যাকেটে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা।’’

প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। উচ্চ স্তরের সিগারেটের মূল্য ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল স্তরে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

এই ব্যবস্থা কর কাঠামোর জটিলতা কমাবে এবং কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর করবে বলেও জানান তিনি। 

তাবিনাজের এই সদস্য বলেন, ‘‘বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং একটি সুস্থ জাতি গঠনের যে অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নে তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূলা বৃদ্ধি একটি অত্যন্ত ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর নীতি পদক্ষেপ। তাই ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর কর বৃদ্ধি ও কর কাঠামো সংস্কার এখন সময়ের দাবি।’’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, তাবিনাজের মরিয়ম মান্নান, পারভীন হাছান, ইয়াছমিন জাহান, বিলকিছ আক্তার বিথি, শারমিন কবির বীণা, মাহমুদা খাতুন, নিগার সুলতানা, ও নারীপক্ষের সামিয়া আফরিন প্রমুখ।