জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বয়সসংক্রান্ত তথ্য সংশোধনের ক্ষমতা আবারো ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় অনলাইনে জেলা-উপজেলার কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
সভায় কর্মকর্তারা বলেন, বয়স সংশোধনের ক্ষমতা ঢাকায় কেন্দ্রীভূত করায় আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। আগে স্থানীয় পর্যায়েই অধিকাংশ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলেও এখন সব আবেদন ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে নাগরিকদের সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সভায় কর্মকর্তাদের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, “আপাতত বয়স সংশোধনসংক্রান্ত আবেদন ঢাকাতেই নিষ্পত্তি হবে।” একই সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তি আরো সহজ ও দ্রুত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
সভায় ইসি সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ে এনআইডির তথ্য সংশোধনের আবেদন দীর্ঘদিন ফেলে না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংরক্ষিত তথ্য উপাত্ত (সংশোধন, যাচাই ও সরবরাহ) প্রবিধানমালা সংশোধনের মাধ্যমে বয়স সংশোধনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে শুধু এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের হাতে দেওয়া হয়। এর আগে এই ক্ষমতা ধাপে ধাপে বিকেন্দ্রীভূত ছিল।
ইসির এনআইডি অনুবিভাগ সূত্র জানায়, আগের নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৩ বছর, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৫ বছর, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৭ বছর, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ৮ বছর এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ১০ বছর পর্যন্ত বয়স সংশোধনের ক্ষমতা পেতেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়েই অধিকাংশ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যেত।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পুরো ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এতে সেবাগ্রহীতার নাগরিক ভোগান্তি বেড়েছে।