জাতীয়

হাম চিকিৎসায় কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না: ডিসি ফরিদা

রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, শিশুদের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় আইসিইউতে ভর্তি শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ডিসি ফরিদা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন ঢাকার এই ডিসি।

অর্থাভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে সাত মাস বয়সি শিশু তাজিমের পরিবার। পরির্দর্শনকালে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে বিষয়টি। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেন। শিশুটির চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে নরসিংদী থেকে আসা আরেক শিশু তামজিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সহায়তার ঘোষণা দেন তিনি।

ডিসি ফরিদা খানম বলেন, “প্রতিটি শিশুই আমাদের সন্তান। কোনো শিশুই যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে এমআর/হাম টিকার আওতায় আনতে হবে।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তিনি শয্যা সংখ্যা, চিকিৎসক ও নার্স সংকটসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দেন।

এদিকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিশু তাজিমের প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম।

তিনি বলেন, “অর্থাভাবে সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে দিশেহারা ছিলাম। এমন সময় জেলা প্রশাসক পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

অন্যদিকে শিশু তামজিদের মা শাহিনুর বলেন, “টাকার অভাবে বাচ্চাকে হয়তো ফিরিয়ে নিতে হতো কিন্তু এখন নতুন আশার আলো দেখছি।”

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে চিকিৎসাধীন শিশুদের পরিবারগুলো সরকার যে পাশ আছে, সেই বার্তা পেয়েছে। কয়েকটি শিশুর স্বজনদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এমন উদ্যোগে তাদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে।

অবশ্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত অনেক শিশু চিকিৎসাধীন, যেখান থেকে প্রায়ই আসছে মৃত্যুর খবর।