সপ্তাহের শেষ দিন মানেই রাজধানীর বাজারে বাড়তি ভিড়। কাপ্তান বাজার আর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ দুই হাটেই মাছ ও মাংসর দাম নিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম এবং পরিবহন খরচ দাম বাড়ার মূল কারণ। শুক্রবার (২২ মে) দুই বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
কাপ্তান বাজারে ভোর থেকেই পাইকারি বেচাকেনা শুরু হয়। আজকে এই বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২০০০-২৩০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি রুই মাছ ৩২০-৩৫০ টাকা, কাতলা মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-২০০ টাকা, পাঙাস ১৬০-১৭৫ টাকা, টেংরা ৭০০-১০০০ হাজার টাকা, চিংড়ি ৭০০-১০০০ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মাছ আড়তদার মো. কামাল বলেন, “নদীতে মাছ কম। ট্রলার ভাড়া আর বরফের দাম বেড়েছে। ঈদের চাপও আছে। তাই দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই।”
লক্ষ্মীবাজার থেকে মাছ কিনতে আসা সাব্বির বলেন, “ইলিশের দাম শুনে আর সাহস হয়নি কেনার। এক কেজি রুই নিলাম ৩৫০ টাকা দিয়ে।”
রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আধা কেজি তেলাপিয়া নিলাম ১০০ টাকায়। ইলিশ এখন স্বপ্ন।”
এদিকে, রায়েরবাগ বাজারে গরুর মাংস হাড়সহ ৭৯০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ১২০০-১৪০০ টাকায় বিক্রির তথ্য জানান বিক্রেতারা। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ৩৫০-৩৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রায়েরবাগ মাংস বিতানের মালিক আব্দুল সালেক বলেন, “হাটে গরুর দাম বেশি। লাইভ ওয়েট ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি। গো-খাদ্য, ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। তাই মাংসের দাম কমানো যাচ্ছে না।”
ক্রেতা রোকসানা আক্তার বলেন, “ঈদের আগে গরুর মাংস লাগবেই। এ কারণে দুই কেজির বদলে এক কেজি মাংস নিচ্ছি। ৮০০ টাকা কেজি শুনে বাজেট এলোমেলো।”
বাজারে প্রতিকেজি বেগুন ৬০-৭০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, কচু ৭০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ৭০-৮০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রিতারা জানান, কাঁচামরিচ ১২০-১৪০ টাকা, আলু ২৫-৩০ টাকা, পেঁয়াজের দাম ৪৫-৫০ টাকা।
সবজি বিক্রেতা মনির উদ্দিন বলেন, “গরমে ফলন কম। বৃষ্টিতে অনেক মাল নষ্ট হয়েছে। শনিরআখড়া থেকে আনতে ট্রাক ভাড়া বেশি পড়ছে। তাই দাম চড়া।”
সবজি ক্রেতা কলেজ শিক্ষক জাহিদ হাসান বলেন, “৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বাজারে দাম কম থাকায় ঢেঁড়স বেশি করে নিয়েছি।"
শারমিন সুলতানা নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, “কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি। অল্প করে নিয়েছি। ঈদের আগে সবকিছুর দাম বাড়ে, এবারো তার ব্যতিক্রম না।”
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “ঈদ সামনে রেখে চাহিদা বাড়ায় দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। অযৌক্তিক মুনাফা ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নজরদারি দরকার। সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।”