হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত ও বিচার, স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ।
শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় গণফ্রন্ট নেতা তৈমুর খান অপুর সঞ্চালনায় এতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে এবং এটিকে মহামারি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও সরকার এখনো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি।
তারা অভিযোগ করেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, নজরদারির অভাব এবং ক্যাম্পেইন না থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, “দেশে হামের বিস্তার মহামারী রূপ নিয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতির অভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।”
একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা, জরুরি ভিত্তিতে পৃথক চিকিৎসা ইউনিট এবং হাম মোকাবিলায় বিশেষ গাইডলাইন বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সমাবেশে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সদস্য কাজী ইকবাল বলেন, “দেশে স্বাস্থ্য সেবা ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে এবং জনগণকে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ নিজ পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে।”
এতে অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে দরিদ্র হয়ে পড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক কাইয়ুম হোসেন হামে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং একটি সংগঠিত জনস্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে ১৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-হাম পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা, শিশু মৃত্যুর তদন্ত ও বিচার, টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার, চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে টিকা উৎপাদন।