জাতীয়

গাবতলীতে ঘরমুখী মানুষের চাপ, স্বস্তিতে ঢাকা ছাড়ছেন যাত্রীরা

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দিনকয়েক বাকি। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। কয়েক দিনের তুলনায় রবিবার (২৪ মে) ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশ-বহির্গমন দ্বার গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ভিড় ও চাপ বেড়েছে। তবে, বিগত বছরগুলোর মতো ভোগান্তি না থাকায়, এক বুক স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন দূর-দূরান্তের যাত্রীরা।

রবিবার গাবতলী বাস টার্মিনাল সরেজমিনে ঘুরে এবং ঘরমুখী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার বড় ধরনের কোনো ঝামেলা ছাড়াই যাত্রীরা বাসে উঠতে পারছেন।

যাত্রীদের মুখে স্বস্তির হাসি কুষ্টিয়াগামী যাত্রী মো. আওলাদ খান তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “অন্যান্য বছর ঈদের আগে গাবতলী আসা মানেই ছিল একটা যুদ্ধক্ষেত্রে নামা। টিকিট পাওয়া যেত না, পেলেও দ্বিগুণ-তিন গুণ বাড়তি ভাড়া গুনতে হতো। এবার অনলাইনে সহজেই টিকিট পেয়েছি, কাউন্টারে এসেও কোনো বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়নি। বাসও একদম সঠিক সময়ে এসেছে। এমন স্বস্তির যাত্রা সত্যিই আগে কম দেখেছি।”

বাচ্চাদের নিয়ে ঝিনাইদহ যাচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী তাহমিনা আক্তার তন্নী। তিনি বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে এই সময়ে বাড়ি যাওয়া সব সময়ই কষ্টের। বিশেষ করে, গাবতলীর জটলা আর ঠেলাঠেলিতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যেত। কিন্তু, আজ এসে দেখলাম, পরিবেশ বেশ শান্ত। নির্ধারিত ভাড়াই রাখা হয়েছে। সময়মতো গাড়ি ছাড়লে এবার কোনো কষ্ট ছাড়াই বাড়ি পৌঁছাতে পারব, ইনশাআল্লাহ।”

টার্মিনালের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তুহিন তালুকদার। রংপুরগামী এই যাত্রী বলেন, “আমি অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছিলাম। বাস টার্মিনালে এসে দেখলাম র‌্যাব, পুলিশ ও বিআরটিএ বুথ বসিয়ে সব ধরনের অনিয়ম তদারকি করছে। গাবতলীর ভেতর পকেটমার আর দালালদের দৌরাত্ম্য রুখতে যে পুলিশি তৎপরতা দেখছি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

কাউন্টারগুলোতে বাড়তি ভাড়ার সুযোগ নেই যাত্রীদের চাপ সামলাতে ও সেবা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. তানজিলা হাওলাদার বলেন, “আজ সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়েছে। আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম, যেন যাত্রীদের কোনো অসুবিধা না হয়। সরকারের কঠোর নির্দেশনার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমরাও নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করছি।”

অনুরূপ কথা জানালেন হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার রনি তালুকদার। তিনি বলেন, “যাত্রীদের চাপ সামলাতে আমরা শতভাগ প্রস্তুত আছি। আজ যারা আগে টিকিট কেটেছেন তারা তো যাচ্ছেনই, পাশাপাশি এখন বাসস্ট্যান্ডে এসেও অনেকে তাৎক্ষণিক টিকিট পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা ছাড়াই মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন।”

টার্মিনাল পরিদর্শনে র‌্যাবের মহাপরিচালক রবিবার গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আসেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে বাস টার্মিনালসহ দেশের সব লঞ্চ ঘাট ও রেল স্টেশন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি, ছিনতাই ও যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে বাস টার্মিনালগুলোতে র‌্যাবের বিশেষ টিম তৎপর রয়েছে।” 

যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনিয়ম চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি যাত্রীদের পরামর্শ দেন।