জাতীয়

এখনো লঞ্চে গন্তব্যে যাওয়া অনেকের পছন্দ

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। সময় কমেছে, বেড়েছে যাতায়াতের সুবিধা। তবে ঈদযাত্রায় বরিশাল, ঝালকাঠি ও বরগুনা অঞ্চলের যাত্রীদের বড় একটি অংশ এখনো নৌপথে লঞ্চকেই বেশি স্বস্তির মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

আরামদায়ক ভ্রমণ, পারিবারিক পরিবেশ, সরাসরি উপজেলা ঘাটে পৌঁছানোর সুবিধা এবং সড়কপথে যানজট ও ভোগান্তির অভিজ্ঞতার কারণে লঞ্চযাত্রা অনেকের কাছেই এখনো প্রথম পছন্দ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঈদযাত্রার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল, ঝালকাঠি এবং বরগুনাগামী যাত্রীদের উপস্থিতিও বাড়তে দেখা গেছে।

বরিশালের বিভিন্ন উপজেলা উজিরপুর, মুলাদী, হিজলা, বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জসহ নানা এলাকার যাত্রীরা লঞ্চঘাটে ভিড় করছেন।

উজিরপুরগামী যাত্রী সোহেল আহমেদ বলেন, “বাসে গেলে পদ্মা সেতু পার হলেও জ্যাম, ভাড়া বেশি আর ক্লান্তি লাগে। লঞ্চে শুয়ে-বসে আরাম করে যাওয়া যায়। পরিবার নিয়ে একসাথে সময় কাটানো যায় এটাই বড় সুবিধা।”

মুলাদীগামী যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, “বাসে গেলে আগে বরিশাল শহর পর্যন্ত যেতে হয়, এরপর আবার উপজেলা পর্যন্ত আলাদা গাড়ি ধরতে হয়। লঞ্চ সরাসরি উপজেলা ঘাটে নামিয়ে দেয়, তাই ঝামেলা কম।”

হিজলাগামী যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, “লঞ্চে কেবিনে পরিবার নিয়ে থাকলে একদম ঘরের মতো পরিবেশ পাওয়া যায়। বাচ্চারা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে, কোনো তাড়াহুড়ো নেই।”

এমভি সুন্দরবন-১৫ লঞ্চের সহকারী ম্যানেজার রাফসুল হক বলেন, “পদ্মা সেতু হওয়ার পর স্বাভাবিক সময়ে যাত্রী কিছুটা কমে গেছে। তবে ঈদে আবার চাপ বাড়ে। সেই অনুযায়ী আমরা অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিয়েছি, যেন যাত্রীদের ভোগান্তি না হয়।”

অন্যদিকে, এমভি পারাবত-১২ লঞ্চের হেড স্টাফ মনির হোসেন জানান, “দৈনন্দিন যাত্রী কমলেও ঈদ মৌসুমে চাপ সামলাতে বাড়তি ট্রিপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রীদের আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো গেলেও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত এলাকার যাত্রীদের জন্য লঞ্চ এখনো বেশি সুবিধাজনক। কারণ, বাসে শহরে নেমে আবার স্থানীয় যানবাহনে গন্তব্যে যেতে হয়, যা ঈদের সময় বাড়তি ভিড় ও ভোগান্তি তৈরি করে। লঞ্চে সরাসরি উপজেলা ঘাটে নামার সুবিধা অনেকের কাছে সময় ও খরচ দুই দিক থেকেই সাশ্রয় হয়।