জাতীয়

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন।”

শনিবার (৩০ মে) হাইকোর্টের সামনে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “১৯৭১ সালের সেই সংকটময় সময়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ছিল। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ দলে দলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, “সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কারণে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন। জিয়াউর রহমানের অবদানকে আড়াল করতে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকট তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে জনগণ ও সেনাসদস্যদের সমর্থনে জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বে আসেন এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেন।”

“তার শাসনামলে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পায়”, যোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, “যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে তার নানা উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রেখেছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়।