প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একসময় মুসলিম বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে বাংলাদেশ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একে অপরের পরিপূরক পরিচয় হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশ বললেই তারা জিয়াউর রহমানকে বুঝত, আবার জিয়াউর রহমান বললেই বাংলাদেশকে চিনত।
রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
১৯৮৬ সালের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আব্বা মারা যাওয়ার প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর পরের ঘটনা। আমি প্রথমবার আম্মার সঙ্গে ওমরাহ করতে গিয়েছিলাম।”
তিনি বলেন, “ঘটনাটি মক্কায়, মাগরিবের সময়কার। মাগরিবের নামাজের পরে, এশার নামাজের আগে, আমরা হোটেলে ফিরেছিলাম একটু রিফ্রেশ হওয়ার জন্য। আমরা সৌদি সরকারের দাওয়াতে গিয়েছিলাম। তখনকার সময়ে এখনকার মতো বড় বড় হোটেল ছিল না। হারাম শরিফও এখনকার তুলনায় অনেক ছোট ছিল এবং চারদিকে রাস্তা ছিল। আমাদেরকে যে হোটেলে রাখা হয়েছিল, তার নাম ছিল মক্কা হোটেল। যারা অনেক আগে গিয়েছেন, তারা হয়তো হোটেলটির সঙ্গে পরিচিত। সরকারি অতিথিদের সাধারণত সেখানে রাখা হতো।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় আমার পাশে আরেকজন লোক এসে দাঁড়াল। লোকটিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি ইন্দোনেশিয়ান। মালয়েশিয়ানও হতে পারেন, তবে মোটামুটি মনে হচ্ছিল ইন্দোনেশিয়ান। তিনি আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কান্ট্রি?’ আমি বললাম, ‘বাংলাদেশ।’ তিনি দুই সেকেন্ডের মধ্যেই বললেন, ও, জিয়াউর রহমান!”
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ নামটা হয়তো সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারেননি, কিন্তু জিয়াউর রহমানের নাম শুনেই চিনেছিলেন। অর্থাৎ বাংলাদেশ বলতেই মুসলিম বিশ্বের অনেক মানুষ জিয়াউর রহমানকে বুঝত, আর জিয়াউর রহমান বলতেই বাংলাদেশকে বুঝত। এটি ছিল সন্তান হিসেবে আমার আরেকটি অভিজ্ঞতা, যেখানে আমি আমার পিতার জন্য গর্ব অনুভব করেছি। “
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একসময় হেনরি কিসিঞ্জার যে দেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলেছিলেন, স্বাধীনতার পর দুর্ভিক্ষপীড়িত সেই বাংলাদেশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প কয়েক বছরের মধ্যে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এবং জিয়াউর রহমান—দুটো নামই প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছিল। মানুষ জিয়া বললে বাংলাদেশকে বুঝত, বাংলাদেশ বললে জিয়াকে বুঝত। “
তিনি বলেন, “আমরা সেই মানুষের আদর্শের রাজনীতি করছি। আমরা সেই মানুষটির রেখে যাওয়া দলের রাজনীতি করছি। আজ আমাদের এই বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।”
দেশের তৎকালীন অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে অর্থনৈতিক অবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, সেটি ছিল একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অবস্থা। স্বাধীনতার পর মানুষ যে পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিল, সেই পরিবর্তন তখনো আসেনি। অর্থাৎ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের যে সমস্যাগুলো ছিল, মোটামুটিভাবে তার সবকিছুই শহীদ জিয়া ইনহেরিট করেছিলেন।”
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সিনিয়র নেতা এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।