জাতীয়

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ বেআইনি: শিশির মনির

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নোটিশকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। একই সঙ্গে তিনি এই নোটিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কতৃপক্ষের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৩ লাখ ৩ হাজার ৮২৯টি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। দীর্ঘ সময়ে তিন লাখের বেশি প্রসবের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি।

তিনি বলেন,“হাসপাতালটি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কম খরচে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, “একটি ভুলের কারণে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের জন্য যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা আইনসম্মত নয়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে পেশাগত অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনার জন্য দায়ীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

শিশির মনির বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল উভয়েই চান না প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাক। তবে যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।”

তিনি নিহত নবজাতকদের পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আজীবন ওষুধ ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে পাবেন। এছাড়া পরিবারের উপযুক্ত শিক্ষার্থীরা আদ-দ্বীনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ বৃত্তির সুযোগ পাবেন এবং যোগ্য সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে চাকরির অগ্রাধিকার পাবেন।”

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে শিশির মনির বলেন, “এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর সবুর খানও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিহত নবজাতকদের একজনের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, “আগের দুই সন্তানও একই হাসপাতালে জন্ম নিয়েছিল এবং সেবায় সন্তুষ্ট থাকায় এবারও তারা সেখানে গিয়েছিলেন।”

তিনি হাসপাতালের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান।

গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়।