জাতীয়

রামিসা হত্যাকাণ্ড পাহাড়ের মতো ভারী  

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে ‘থাই পাহাড়ের মতো ভারী’ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

রবিবার (৭ মে) বিকেলে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রামিসা হত্যা মামলার মূল আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। মাও সেতুং বলেছিলেন, কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী, কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা।”

তিনি বলেন, “রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে। এই আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করতে পারলে সেটা জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা মনে হবে। এটাই ছিল জাতির কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি।”

মন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, রামিসার বাবা বিচার চান না, এ বিষয়ে কী বলব? আমরা বলেছিলাম, একমাত্র জবাব হবে তার আস্থা ফিরিয়ে দেওয়া। আজ রামিসার বাবা বলেছেন, তিনি এই বিচারে সন্তুষ্ট। আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।”

রায়ের প্রক্রিয়া তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, “গত ১৯ মে পল্লবীতে নৃশংস ঘটনার ৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সরকার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করি। তখন ভিকটিমের বাবা বলেছিলেন, তিনি বিচার চান না। কারণ, এ দেশে বিচার হবে না। আমরা আশ্বস্ত করেছিলাম। ৫ দিনের মাথায় পুলিশ ২৪ মে দুপুর ১২টায় চার্জশিট দেয়। বিকেল ৪টার মধ্যে সেটি সিএমএম কোর্ট থেকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ১ জুন থেকে নিম্ন আদালত ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল। প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়।”

আসামিপক্ষ আইনজীবী না দেওয়ায় ২৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার দেওয়া হয়, মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “১ জুন চার্জ গঠন, ২ জুন ১৬ জনের সাক্ষ্য, ৩ জুন আসামিপক্ষের সাক্ষ্য, ৪ জুন যুক্তি-তর্ক এবং ৭ জুন রায় হয়। আদালত ৪১ মিনিট ধরে পর্যালোচনা ও আদেশ পাঠ করেন। দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।” এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে আইনমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

মন্ত্রী বলেন, “সরকারের বিশেষ তদারকিতে তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করতে যা যা দরকার, সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”