সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখে পৌঁছেছে। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকার।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। সড়ক ও মহাসড়কে নিবন্ধনবিহীন ও অবৈধভাবে চলাচলকারী মোটরসাইকেল শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, যেসব মোটরসাইকেল এখনো বিআরটিএর নিবন্ধনের আওতায় আসেনি, সেসব যানবাহনের মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ নিবন্ধন দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, “সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী ‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা-২০২৪’ জারি করা হয়েছে।”
তিনি জানান, মহাসড়কে গতিসীমা কার্যকর করতে স্পিড লিমিট সাইন, ট্রাফিক সাইন, রাম্বল স্ট্রিপ, স্পিড কন্ট্রোল জোন, সার্ভিস লেন, মিডিয়ান ও চ্যানেলাইজেশনের মতো বিভিন্ন অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিউল আলম বলেন, “আধুনিক ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) প্রযুক্তির মাধ্যমে গতিসীমা অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিআরটিএ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি জানান, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করতে নিয়মিত রোড সেফটি অডিট ও ট্রাফিক মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও অতিরিক্ত গতির কারণে ঝুঁকি তৈরি হলে সেখানে প্রয়োজনীয় গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও সমান গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।